র্যাশ ছাড়াই টানা চুলকানি? যে ৪ পরীক্ষা করানোর পরামর্শ
ত্বকে কোনো র্যাশ বা দাগ নেই, অথচ দীর্ঘদিন ধরে সারা শরীরে চুলকানি হচ্ছে—বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। বিশেষ করে চুলকানি টানা ছয় সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে এর পেছনে শুধু ত্বকের শুষ্কতা নয়, শরীরের অন্য কোনো সমস্যাও থাকতে পারে। অনেকের ত্বক স্বাভাবিকভাবেই শুষ্ক থাকে। মাঝে মধ্যে চুলকানিও হতে পারে। কিন্তু নতুন করে চুলকানি শুরু হওয়া, ধীরে ধীরে বাড়তে থাকা কিংবা দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে কারণ খুঁজে দেখা প্রয়োজন।
র্যাশ না থাকলে কী কারণে চুলকানি হতে পারে?
আরও পড়ুন: আজ ন্যাশনাল বয়ফ্রেন্ড ডে, কীভাবে শুরু হলো এই দিবস?
ত্বকে লালচে দাগ, ফুসকুড়ি, শুষ্কতা বা খসখসে ভাব থাকলে সাধারণত ত্বকের সমস্যার বিষয়টি আগে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু ত্বক দেখতে স্বাভাবিক থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন চুলকানি হলে শরীরের অভ্যন্তরীণ কোনো সমস্যার সঙ্গে এর সম্পর্ক থাকতে পারে।
লিভারের কিছু সমস্যায় বিশেষ করে হাতের তালু ও পায়ের তলায় চুলকানি হতে পারে। কিডনির সমস্যায় রাতে সারা শরীরে চুলকানি বাড়তে পারে। থাইরয়েডের সমস্যা, রক্তস্বল্পতা বা আয়রনের ঘাটতির সঙ্গেও চুলকানির মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
আরও পড়ুন: আজ আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস
ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রেও ত্বকে নানা পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে গেলে শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হয়ে ত্বক শুষ্ক হওয়ার প্রবণতা বাড়তে পারে, যার ফলে চুলকানি হতে পারে। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে ত্বক শুষ্ক হয়ে চুলকানি হওয়াও স্বাভাবিক হতে পারে। তাই চুলকানি হলেই গুরুতর রোগ হয়েছে—এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
- নিচের যেকোনো লক্ষণ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি—
- চুলকানি টানা ছয় সপ্তাহের বেশি থাকলে
- চুলকানির সঙ্গে চোখ বা ত্বক হলুদ হয়ে গেলে
- কোনো কারণ ছাড়াই ওজন কমতে থাকলে
- চুলকানির সঙ্গে রাতে ঘাম বা জ্বর হলে
- গলা বা শরীরের অন্য কোথাও কোনো গ্রন্থি ফুলে উঠলে
- যে ৪টি পরীক্ষা করা হতে পারে
দীর্ঘদিন ধরে র্যাশবিহীন চুলকানি থাকলে চিকিৎসক রোগীর উপসর্গ ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে কিছু পরীক্ষা দিতে পারেন। এর মধ্যে রয়েছে—
১. লিভার ফাংশন টেস্ট (LFT):
লিভারের কার্যকারিতা ও সংশ্লিষ্ট সমস্যার কিছু ইঙ্গিত পেতে এ পরীক্ষা করা হয়।
২. কিডনি ফাংশন টেস্ট (KFT):
কিডনির কার্যকারিতা যাচাই করতে এ পরীক্ষা করা হয়।
৩. থাইরয়েড পরীক্ষা:
থাইরয়েডের কার্যকারিতায় কোনো অস্বাভাবিকতা আছে কি না, তা দেখতে পরীক্ষা করা হতে পারে।
৪. কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট (CBC):
রক্তস্বল্পতাসহ রক্তের বিভিন্ন অস্বাভাবিকতা সম্পর্কে ধারণা পেতে এ পরীক্ষা করা হয়।
দীর্ঘদিন ধরে চুলকানি থাকলে শুধু ক্রিম বা লোশন ব্যবহার করে উপসর্গ চাপা না দিয়ে এর কারণ খুঁজে বের করা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ত্বকে দৃশ্যমান কোনো র্যাশ না থাকলে এবং চুলকানি ক্রমাগত বাড়তে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
স্বাস্থ্য সতর্কতা: এই তথ্য সাধারণ স্বাস্থ্যসচেতনতার জন্য। চুলকানির কারণ ব্যক্তি ও উপসর্গভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসার বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।





