আপেল সাইডার ভিনেগার খাওয়ার সঠিক নিয়ম, কী কী উপকার হতে পারে?
সকালে খালি পেটে এক চুমুক, খাবারের আগে এক চামচ কিংবা সালাদের সঙ্গে—আপেল সাইডার ভিনেগার (ACV) খাওয়ার নানা প্রচলিত পদ্ধতি রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর নানা স্বাস্থ্য উপকারিতার কথা বলা হলেও সব দাবির পক্ষে সমান বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তবে গবেষণায় রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ ও ওজন ব্যবস্থাপনায় এর কিছু সম্ভাব্য উপকারের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তাই আপেল সাইডার ভিনেগার কীভাবে এবং কতটা খাওয়া নিরাপদ, সেটি জানা গুরুত্বপূর্ণ।
রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে
আরও পড়ুন: বর্ষায় কেন বাড়ে ফুড পয়জনিং, কীভাবে থাকবেন নিরাপদ
আপেল সাইডার ভিনেগারে অ্যাসিটিক অ্যাসিড থাকে, যা গাঁজন প্রক্রিয়ায় তৈরি হয়। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, খাবারের সঙ্গে ভিনেগার গ্রহণ করলে খাবারের পর রক্তে গ্লুকোজ বেড়ে যাওয়ার মাত্রা কিছুটা কমতে পারে। পুষ্টি গবেষক ক্যারল জনস্টন ও তাঁর সহকর্মীদের একটি গবেষণায় দেখা যায়, খাবারের সঙ্গে ভিনেগার গ্রহণ করলে খাবারের পর রক্তে গ্লুকোজ বৃদ্ধির ওপর প্রভাব পড়তে পারে। খাবারের কয়েক ঘণ্টা আগে গ্রহণের তুলনায় খাবারের সময় ভিনেগার গ্রহণের প্রভাব বেশি ছিল।
ওজন কমাতে কি সাহায্য করে?
আরও পড়ুন: রাতে ৬ ঘণ্টার কম ঘুমালেই বাড়তে পারে যেসকল রোগ
আপেল সাইডার ভিনেগারকে ওজন কমানোর ‘জাদুকরী উপায়’ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তবে কিছু গবেষণায় ওজন ব্যবস্থাপনায় সামান্য উপকারের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ২০০৯ সালে জাপানি গবেষক টোমু কনডোর নেতৃত্বে পরিচালিত ১২ সপ্তাহের একটি গবেষণায় ১৭৫ জন প্রাপ্তবয়স্ক অংশ নেন। সেখানে প্রতিদিন ভিনেগার গ্রহণকারীদের শরীরের ওজন, বিএমআই ও শরীরের চর্বিতে সামান্য হ্রাস দেখা যায়।
তবে এর অর্থ এই নয় যে আপেল সাইডার ভিনেগার সরাসরি শরীরের চর্বি বা পেটের মেদ গলিয়ে দেয়। সুষম খাবার ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের পাশাপাশি ওজন নিয়ন্ত্রণে এর ভূমিকা থাকলেও তা সীমিত।
অন্ত্রের জন্য কতটা উপকারী?
আপেল সাইডার ভিনেগার অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো করে—এমন দাবি অনলাইনে বেশ প্রচলিত। প্রাথমিক গবেষণায় ভিনেগার অন্ত্রের মাইক্রোবায়োমে প্রভাব ফেলতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে এ বিষয়ে বেশ কিছু গবেষণা প্রাণীর ওপর করা হয়েছে। মানুষের ক্ষেত্রে আপেল সাইডার ভিনেগার অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার ওপর কী ধরনের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে, তা নিশ্চিতভাবে বলার মতো পর্যাপ্ত গবেষণা এখনো নেই।
কখন খাবেন?
যদি লক্ষ্য হয় খাবারের পর রক্তে শর্করা বৃদ্ধির মাত্রা কমানো, তাহলে গবেষণার ফল অনুযায়ী কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবারের সঙ্গে বা খাবারের কিছুক্ষণ আগে ভিনেগার গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে শুধু আপেল সাইডার ভিনেগার খাওয়ার জন্য দিনের নির্দিষ্ট কোনো সময় সবচেয়ে ভালো—এমন শক্ত প্রমাণ নেই।
কতটা খাবেন?
শুরু করতে এক বড় গ্লাস পানিতে ১ চা চামচ আপেল সাইডার ভিনেগার মিশিয়ে নেওয়া যেতে পারে। বিভিন্ন গবেষণায় এর চেয়ে বেশি পরিমাণ ব্যবহার করা হয়েছে। তবে গবেষণায় বেশি পরিমাণ ব্যবহৃত হয়েছে বলেই তা অনুসরণ করা প্রয়োজন নেই। বেশি আপেল সাইডার ভিনেগার গ্রহণ করলে বেশি স্বাস্থ্য উপকার পাওয়া যায়—এমন প্রমাণ নেই।
সরাসরি পান করবেন না
আপেল সাইডার ভিনেগার অ্যাসিডিক হওয়ায় ঘন অবস্থায় সরাসরি পান করা নিরাপদ নয়। এতে গলা জ্বালা করতে পারে এবং নিয়মিতভাবে দাঁতের সংস্পর্শে এলে দাঁতের এনামেল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই সরাসরি না খেয়ে পর্যাপ্ত পানিতে মিশিয়ে পাতলা করে খাওয়া ভালো। দাঁতের সঙ্গে অ্যাসিডের সংস্পর্শ যতটা সম্ভব কম রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।





