বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট বর্তমান সরকারের তৈরি নয়: বাণিজ্যমন্ত্রী

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৬:১৫ অপরাহ্ন, ১৫ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৭:২৫ অপরাহ্ন, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

দেশের বিভিন্ন মিল-কারখানা গ্যাস সংকটে ভুগছে—এটি অস্বীকার করার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তবে তিনি বলেছেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের চলমান সংকট বর্তমান সরকারের তৈরি নয়; এটি সরকার উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে। স্থায়ীভাবে সংকট থেকে বের হতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে সিলেট নগরীর হোটেল মেট্রোর কনফারেন্স রুমে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আয়োজিত কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: নবম পে স্কেলের খসড়া প্রায় চূড়ান্ত, সর্বোচ্চ ১০০% বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব

মন্ত্রী বলেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার প্রচলিত চিন্তার বাইরে গিয়েও বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বর্তমান সমস্যা আগামী দুই বছরের মধ্যে পুরোপুরি সমাধানের আশা রয়েছে।

তিনি বলেন, গরমের কারণে বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে। শীতকালে এ চাহিদা অনেকটাই কমে আসবে। পাশাপাশি দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) থেকে পূর্ণ সক্ষমতায় গ্যাস পাওয়া গেলে বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতের বর্তমান সংকট অনেকটাই কমে আসবে। তবে স্থায়ীভাবে গ্যাস সংকট কাটাতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করতে সময় লাগবে।

আরও পড়ুন: জেবিএবি নির্বাচনে সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, সম্পাদক শাহ জাহান

বিদ্যুৎ পরিস্থিতি প্রসঙ্গে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, গত ৫ থেকে ১০ দিনের পরিস্থিতি কিছুটা খারাপ হওয়ার অন্যতম কারণ দুটি এফএসআরইউর একটি থেকে গ্যাস নামানো সম্ভব না হওয়া। এরই মধ্যে অন্য একটি এফএসআরইউ থেকে নতুন করে গ্যাস নামানো শুরু হয়েছে। এর সুফল ইতোমধ্যে পাওয়া যাচ্ছে এবং পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে।

আরেকটি এফএসআরইউতে সংশ্লিষ্ট কাজ চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, কাজ শেষ হলে দুটি এফএসআরইউ থেকেই পূর্ণ সক্ষমতায় গ্যাস পাওয়া যাবে। তখন এক মাস আগের বিদ্যুৎ পরিস্থিতিতে ফিরে যাওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শিল্প-কারখানায় গ্যাস ও জ্বালানি সংকটকে দেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, শিল্পের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য নতুন বিনিয়োগ প্রয়োজন। আর নতুন বিনিয়োগের জন্য জ্বালানির নিশ্চয়তা অপরিহার্য।

তিনি বলেন, এলএনজি আমদানি বাড়াতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করতে হবে। তবে এ ক্ষেত্রে কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। সরকার সেগুলো সমাধানের চেষ্টা করছে। আগামী দুই বছরের মধ্যে সমস্যাটির পূর্ণাঙ্গ সমাধান সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে দুই বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করে বসে থাকার সুযোগ নেই জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এর মধ্যে সাময়িকভাবে কী করা যায় এবং প্রচলিত টেন্ডার প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব কি না, সরকার তা-ও খতিয়ে দেখছে।

মালয়েশিয়া থেকে এলএনজি আমদানির উদ্যোগের কথা জানিয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, এ বিষয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর টেলিফোনে কথা হয়েছে।

তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পেট্রোনাস থেকে বড় জাহাজে করে গ্যাস এনে বাংলাদেশের বহিঃসমুদ্রে ছোট জাহাজে স্থানান্তরের মাধ্যমে এলএনজি সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। তবে মালয়েশিয়ার ছোট এলএনজি পরিবহনকারী জাহাজগুলো বিভিন্ন কাজে আগে থেকেই বুকড থাকায় উদ্যোগটি বাস্তবায়নে কিছুটা জটিলতা রয়েছে।

এর আগে কর্মশালায় ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জেলা পর্যায়ের বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং বিগত বছরের বাস্তবায়ন মূল্যায়ন নিয়ে আলোচনা করা হয়। কর্মশালাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ‘আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সিলেট অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প’-এর আওতায় আয়োজন করা হয়।