সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘টাকা না মেধা’ ট্রলে ঝড়

শিক্ষক নিয়োগ আবারও ম্যানেজিং কমিটির হাতে ফেরানোর খবরে তীব্র আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৬:১৬ অপরাহ্ন, ১০ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১২:১৬ পূর্বাহ্ন, ১১ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) কাছ থেকে ম্যানেজিং কমিটির হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হলে সারা দেশে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোটের সদস্যসচিব অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজী।

গতকাল সোমবার তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে রোববার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।

আরও পড়ুন: ঢাবির ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক নুরুল আমিন

দেলোয়ার হোসেন আজিজী লেখেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা এনটিআরসিএর কাছ থেকে ম্যানেজিং কমিটির হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র হলে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোট ছয় লক্ষাধিক শিক্ষক-কর্মচারীকে সঙ্গে নিয়ে সারা দেশে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলবে। প্রয়োজনে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা একযোগে কর্মবিরতিতেও যাবেন।

তিনি আরও লেখেন, ‘এটা শিক্ষকদের দাবি-দাওয়ার আন্দোলন নয়, এ আন্দোলন হবে শিক্ষাকে অশুভ শক্তির হাত থেকে রক্ষার আন্দোলন। বিনা টাকায় মেধাবীদের শিক্ষকতা পেশায় আসার আন্দোলন।’

আরও পড়ুন: চুয়েটে তালা ভেঙে কার্যালয়ে প্রবেশ করলেন নতুন উপাচার্য

বিনা পয়সায় শিক্ষকতা পেশায় আসতে আগ্রহী মেধাবী শিক্ষার্থীরাও এ আন্দোলনে যুক্ত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এর আগে ‘এনটিআরসিএ নয়, ম্যানেজিং কমিটির হাতে যাচ্ছে শিক্ষক নিয়োগ’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় গণমাধ্যমে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশের ক্ষমতা হারাতে পারে এনটিআরসিএ। একই সঙ্গে আগের মতো প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় গঠিত ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির মাধ্যমে বেসরকারি স্কুল-কলেজে প্রবেশপর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হতে পারে।

প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর তা ব্যাপকভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এমন উদ্যোগের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখান শিক্ষক-শিক্ষার্থী, শিক্ষাবিদসহ নেটিজেনরা। এ নিয়ে অনেকেই ফেসবুকে পোস্ট দিচ্ছেন।

তাদের অভিযোগ, এনটিআরসিএর পরিবর্তে ম্যানেজিং কমিটির হাতে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা গেলে ঘুষ ও দুর্নীতি বাড়তে পারে। এজন্য তারা এনটিআরসিএর মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশের পদ্ধতি বহাল রাখার দাবি জানাচ্ছেন।

জানা যায়, গত ৩ আগস্ট বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশপর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগে অনুসরণীয় পদ্ধতি নিয়ে ডাকা এক সভায় এমন প্রস্তাবনা এসেছে। সভায় অংশ নেওয়া একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রস্তাবনাটি মূলত জাতীয় সংসদে দেওয়া আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে এসেছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এনটিআরসিএর কাজের মধ্যে কোথাও শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করতে পারার বিষয়টি উল্লেখ নেই। সংস্থাটি কেবল নিবন্ধন পরীক্ষা নেবে এবং পরবর্তীতে নিবন্ধন সনদ প্রত্যয়ন করবে। ফলে বিষয়টি নিয়ে আইনি জটিলতা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ নিয়ে আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের ভিত্তিতে বৈঠকে আলোচনা করা হয়।

২০০৫ সালে এনটিআরসিএ প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রথম এক দশক সংস্থাটি শুধু শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা নিয়ে সনদ দিত। ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর সংস্থাটি নিবন্ধনধারী শিক্ষকদের সরাসরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগের সুপারিশ দেওয়ার কার্যক্রম শুরু করে। ২০২৬ সাল পর্যন্ত এ সংস্থাটি এক লাখ ৭৭ হাজার ৫৭১ জন শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করেছে।

এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো শূন্যপদের বিপরীতে নিজেদের উদ্যোগে জাতীয় বা স্থানীয় দৈনিক পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করত। প্রার্থীরা সরাসরি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে আবেদন করতেন এবং ম্যানেজিং কমিটির অধীনে গঠিত বোর্ডের মাধ্যমে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতেন।

ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডি নিজেদের পছন্দ ও সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রার্থী নির্বাচন করে চূড়ান্ত নিয়োগ দিত।