নবম পে স্কেলের খসড়া প্রায় চূড়ান্ত, সর্বোচ্চ ১০০% বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে স্কেলের খসড়া প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। মন্ত্রিসভা সচিবের নেতৃত্বাধীন সচিব কমিটি প্রস্তাবটি নীতিগতভাবে চূড়ান্ত করেছে। প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি পাওয়া গেলে চলতি সপ্তাহেই এটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে উঠতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামোয় সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। তবে সব গ্রেডে একই হারে বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়নি। উচ্চ গ্রেডের তুলনায় নিম্ন গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন তুলনামূলক বেশি হারে বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছে সচিব কমিটি।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব আরও গভীর করতে চায় ভারত: হাইকমিশনার
খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী, নবম পে স্কেল দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রথম ধাপে মূল বেতন বাড়ানো হবে। দ্বিতীয় ধাপে ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে।
গত বুধবার মন্ত্রিসভা সচিবের নেতৃত্বাধীন কমিটির বৈঠকে পে স্কেলের খসড়াটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের জন্য নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে মন্ত্রিসভায় আলোচনার পর প্রয়োজন হলে খসড়ার বিভিন্ন অংশে পরিবর্তন বা সংশোধন করা হতে পারে। এমনকি নতুন বেতন কাঠামো কত ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়েও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভা নেবে।
আরও পড়ুন: অর্থের অভাবে চিকিৎসা থেকে কেউ বঞ্চিত হবে না: প্রধানমন্ত্রী
খসড়া পরিকল্পনায় চলতি বছরের জুলাই থেকে নবম পে স্কেলের আংশিক বাস্তবায়ন শুরুর সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। এরপর ধাপে ধাপে বেতন কাঠামোর অন্যান্য অংশ বাস্তবায়ন করে ২০২৮ সালের জানুয়ারির মধ্যে পুরো পে স্কেল কার্যকর করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত বাস্তবায়ন পদ্ধতি ও সময়সূচি মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পরই নিশ্চিত হবে।
নবম পে স্কেল চূড়ান্ত করার পথে বিচার বিভাগ-সংক্রান্ত কিছু জটিলতা দেখা দিয়েছে। বিষয়টি পর্যালোচনা ও জটিলতা নিরসনের জন্য অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে সরকার।
এই কমিটির সুপারিশও নতুন বেতন কাঠামো চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে স্কেল কার্যকর হওয়ার পর প্রায় এক দশক পার হয়েছে। এ সময়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিয়মিত ইনক্রিমেন্ট পেলেও জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে নতুন জাতীয় বেতন কাঠামোর দাবি দীর্ঘদিন ধরেই জোরালো হয়ে আসছে।
এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের জুলাইয়ে নবম পে কমিশন সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। কমিশনের প্রতিবেদনে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছিল।
ওই প্রস্তাবে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ ছিল। তবে সচিব কমিটির চূড়ান্ত করা খসড়ায় সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত মূল বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
এখন নবম পে স্কেলের খসড়া মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পরই সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো, বেতন বৃদ্ধির হার এবং বাস্তবায়নের সময়সূচি সম্পর্কে চূড়ান্ত চিত্র পাওয়া যাবে।





