চেক বাউন্স মামলায় সময়সীমা মিস, রাজপাল যাদবকে সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশ

Shahrier Islam Pallab
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৯:২১ অপরাহ্ন, ০৫ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১০:৩০ অপরাহ্ন, ০৫ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

চেক বাউন্স মামলায় আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ জমা না দেওয়ায় বলিউড অভিনেতা রাজপাল যাদবকে কড়া ভর্ৎসনা করেছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবারের মধ্যে বকেয়া অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দিয়ে মামলাটি বুধবার প্রথম শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও ভি মোহনার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। মেসার্স মুরলী প্রজেক্টস প্রাইভেট লিমিটেডের সঙ্গে দীর্ঘদিনের আর্থিক বিরোধ ও চেক বাউন্সের মামলাটি নিয়ে এই শুনানি হয়।

আরও পড়ুন: ২০ বছর পূর্তিতে ৯ শহরে অরিজিৎ সিংয়ের ভারত সফর

এর আগে ১৫ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্ট রাজপাল যাদবকে বকেয়া অর্থ পরিশোধের একটি নির্দিষ্ট প্রস্তাব দিতে দুই সপ্তাহ সময় দিয়েছিল। পাশাপাশি আদালতের রেজিস্ট্রিতে ২ কোটি টাকা জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হলেও সেই অর্থ জমা পড়েনি। শুনানিতে রাজপাল যাদবের আইনজীবী ৫০ লাখ টাকার একটি ডিমান্ড ড্রাফট আদালতে উপস্থাপন করে জানান, সেটি ব্যাংকে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ সময় বেঞ্চ অর্থ পরিশোধের বিষয়ে আরও কঠোর অবস্থান নেয়।

আদালত জানায়, রাজপাল যাদবের আপিল খারিজ করে দেওয়ার সুযোগ থাকলেও অভিযোগকারীর পাওনা অর্থ আদায়ের সম্ভাবনা বিবেচনায় আদালত সে পথে যেতে চায় না। তবে আদালতের নির্দেশ বারবার অমান্য করাকে বেঞ্চ গুরুতরভাবে দেখেছে।

আরও পড়ুন: নিউইয়র্কে প্রথমবার মুসলিম চলচ্চিত্র উৎসব

যে কারণে মামলা

২০১০ সালে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য মেসার্স মুরলী প্রজেক্টস প্রাইভেট লিমিটেডের কাছ থেকে রাজপাল যাদব ৫ কোটি টাকা নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। পরে পাওনা পরিশোধের জন্য তিনি ১ কোটি ৫ লাখ টাকার সাতটি চেক দেন। অভিযোগ অনুযায়ী, সবগুলো চেকই বাউন্স করে।

পরবর্তী সময়ে ২০১২ সালে করা একটি চুক্তিতে রাজপাল যাদব, তাঁর স্ত্রী রাধা এবং তাঁদের প্রতিষ্ঠান সুদসহ প্রায় ১১ কোটি টাকা পরিশোধে সম্মত হন বলে অভিযোগকারী পক্ষ জানায়। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই মামলায় এর আগেও অভিনেতার বিরুদ্ধে আদালতের বিভিন্ন নির্দেশনা জারি হয়েছিল।

দিল্লি হাইকোর্ট গত ১০ জুলাই একাধিক চেক বাউন্স মামলায় রাজপাল যাদবের সাজা বহাল রেখে তাঁকে তিন মাসের কারাদণ্ড দেয়। একই সঙ্গে সাতটি মামলার প্রতিটিতে অভিযোগকারীকে এক কোটি টাকার বেশি পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এর আগে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাঁকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছিল, পরে সেই সাজা কমিয়ে তিন মাস করা হয়। সুপ্রিম কোর্টে মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন।