পছন্দের খাবার দেখলেই কেন জিভে জল আসে? জানুন বৈজ্ঞানিক কারণ

Any Akter
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩:০০ অপরাহ্ন, ১৫ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৩:৫৯ অপরাহ্ন, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বিরিয়ানির গন্ধ পেলেই হঠাৎ খিদে বেড়ে যায়। ভরপেট খাওয়ার পরও পছন্দের আইসক্রিম দেখলে জিভে জল আসে। এমন অভিজ্ঞতা কমবেশি সবারই রয়েছে। তবে এটি নিছক কাকতালীয় ঘটনা নয়। এর পেছনে রয়েছে মস্তিষ্ক ও পাচনতন্ত্রের একটি স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া।

গবেষকদের মতে, খাবার মুখে দেওয়ার আগেই আমাদের শরীর পাচনের জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। বিজ্ঞানের ভাষায় এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘সেফালিক ফেজ অব ডাইজেশন’ (Cephalic Phase of Digestion)।

আরও পড়ুন: চুলে সাবান ব্যবহার কতটা নিরাপদ? নিয়মিত ব্যবহারে হতে পারে যে ক্ষতি

খাবার দেখলেই শরীর কেন প্রস্তুত হয়?

পাচনপ্রক্রিয়া শুধু খাবার খাওয়ার পর শুরু হয় না। পছন্দের খাবার দেখা, তার গন্ধ পাওয়া কিংবা সেই খাবার নিয়ে চিন্তা করার সময়ও শরীরের ভেতরে কিছু পরিবর্তন শুরু হয়ে যায়। চোখ, নাক কিংবা স্মৃতির মাধ্যমে প্রিয় খাবারের সংকেত মস্তিষ্কে পৌঁছায়। তখন মস্তিষ্ক ধরে নেয়, অল্প সময়ের মধ্যেই খাবারটি খাওয়া হতে পারে। ফলে পাচনতন্ত্রকে আগে থেকেই প্রস্তুত করার জন্য বিভিন্ন সংকেত পাঠানো শুরু হয়।

আরও পড়ুন: ঘরে রোদ আসে না? কম আলোতেও টিকে থাকবে এই ৫ গাছ

এর একটি ফল হলো লালা নিঃসরণ বেড়ে যাওয়া। মস্তিষ্ক লালাগ্রন্থিকে সংকেত দিলে মুখে দ্রুত লালা তৈরি হতে থাকে। এ কারণেই পছন্দের খাবারের ছবি দেখা কিংবা গন্ধ পেলেও অনেকের জিভে জল চলে আসে।

পেট ভরা থাকলেও কেন খেতে ইচ্ছে করে?

শুধু লালাগ্রন্থিই নয়, খাবারের দৃশ্য বা গন্ধ মস্তিষ্কের এমন কিছু প্রক্রিয়াকেও সক্রিয় করতে পারে, যা ক্ষুধা ও খাবারের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে যুক্ত। ফলে পেট ভরা থাকলেও পছন্দের খাবার সামনে এলে আবার খেতে ইচ্ছে করতে পারে। অর্থাৎ, শারীরিক ক্ষুধা না থাকলেও খাবারের প্রতি আকাঙ্ক্ষা তৈরি হতে পারে।

Journal of Nutrition-এ প্রকাশিত গবেষণা এবং হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের কাজেও খাবারের সংকেত ও শরীরের এই প্রতিক্রিয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গন্ধের প্রভাবও কম নয়

খাবারের গন্ধের সঙ্গে আমাদের মস্তিষ্কের সম্পর্ক বেশ গভীর। ঘ্রাণতন্ত্র বা অলফ্যাক্টরি সিস্টেম খাবারের গন্ধ শনাক্ত করে সেই তথ্য মস্তিষ্কে পাঠায়। মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস ক্ষুধা ও তৃষ্ণা নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে যুক্ত। খাবারের আকর্ষণীয় গন্ধ এ ব্যবস্থাকে উদ্দীপিত করতে পারে। একই সঙ্গে খাবারের গন্ধ ও স্মৃতির সঙ্গে যুক্ত মস্তিষ্কের কার্যক্রমও খাবারের প্রতি আকাঙ্ক্ষা বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রিয় খাবারের সঙ্গে আনন্দের স্মৃতি যুক্ত থাকলে এর প্রভাব আরও বেশি হতে পারে। ফলে কোনো নির্দিষ্ট খাবারের গন্ধ পেলেই শুধু খাওয়ার ইচ্ছাই নয়, ভালো লাগার অনুভূতিও তৈরি হতে পারে।

দুর্গন্ধে আবার উল্টো প্রতিক্রিয়া কেন?

পছন্দের খাবারের ক্ষেত্রে মস্তিষ্ক যেমন খাওয়ার প্রস্তুতি নেয়, তেমনি পচা, বাসি বা ক্ষতিকর খাবারের ক্ষেত্রে বিপরীত প্রতিক্রিয়াও তৈরি করতে পারে। কটু বা দুর্গন্ধযুক্ত কোনো খাবারের গন্ধ পেলে অরুচি, গা গুলানো কিংবা বমি ভাব হতে পারে। এটি মূলত সম্ভাব্য ক্ষতিকর খাবার থেকে শরীরকে দূরে রাখার একটি প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা।

এমনকি অতীতে কোনো নির্দিষ্ট খাবার খেয়ে অসুস্থ হওয়ার অভিজ্ঞতা থাকলে পরবর্তী সময়ে সেই খাবারের গন্ধ পেলেই মস্তিষ্ক সতর্ক সংকেত দিতে পারে। তখন খাবারটি দেখলেই বা গন্ধ পেলেই অরুচি কিংবা বমি ভাব তৈরি হতে পারে।

অর্থাৎ, খাবার দেখলে জিভে জল আসা শুধু খিদের বিষয় নয়; খাবারের দৃশ্য, গন্ধ, স্মৃতি ও মস্তিষ্কের সংকেত মিলেই শরীরকে খাবার গ্রহণের জন্য প্রস্তুত করে।