স্বাস্থ্যকর ভেবে যে ৬ খাবার খাচ্ছেন, আসলে কতটা উপকারী?

Any Akter
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ৪:৫৭ অপরাহ্ন, ০৯ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৬:০৩ অপরাহ্ন, ০৯ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

স্বাস্থ্যকর থাকার জন্য খাবারের তালিকায় অনেকেই সাদা পাউরুটির বদলে ব্রাউন ব্রেড, বিস্কুটের বদলে এনার্জি বার কিংবা ফলের বদলে এক গ্লাস ফলের রস বেছে নেন। প্যাকেটের গায়ে ‘লো-ফ্যাট’, ‘মাল্টিগ্রেন’, ‘ন্যাচারাল’ কিংবা ‘হেলদি’ লেখা থাকলে খাবারটিকে আরও স্বাস্থ্যকর মনে হয়।

তবে খাবারের প্যাকেটের আকর্ষণীয় মোড়ক বা বিপণনের ভাষা সবসময় পুরো সত্যটা বলে না। কিছু খাবার দেখতে স্বাস্থ্যকর হলেও উপাদান ও প্রক্রিয়াজাতকরণের কারণে সেগুলো প্রত্যাশার তুলনায় কম পুষ্টিকর হতে পারে। তাই শুধু নাম বা রং দেখে নয়, খাবারের উপাদান ও পুষ্টিগুণ দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।

আরও পড়ুন: আজ বিশ্ব বিড়াল দিবস

ব্রাউন ব্রেড

সাদা পাউরুটির তুলনায় বাদামি রঙের ব্রেডকে অনেকেই বেশি স্বাস্থ্যকর মনে করেন। কিন্তু সব ব্রাউন ব্রেড শতভাগ গমের তৈরি নয়। কিছু পণ্যে পরিশোধিত ময়দার সঙ্গে ক্যারামেল বা গুড় ব্যবহার করে বাদামি রং তৈরি করা হয়। তাই শুধু রং দেখে ব্রেড কেনার বদলে প্যাকেটের উপাদান তালিকা দেখা উচিত। শতভাগ পূর্ণশস্য বা হোল-গ্রেইন দিয়ে তৈরি রুটি সাধারণত বেশি ফাইবার সরবরাহ করে এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সহায়তা করতে পারে।

আরও পড়ুন: মাইক্রোপ্লাস্টিক কি নীরব স্বাস্থ্যঝুঁকি? যেভাবে খাবারের সঙ্গে শরীরে ঢুকছে ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা

এনার্জি বার

ব্যস্ত সময়ে দ্রুত ক্ষুধা মেটাতে এনার্জি বার জনপ্রিয়। এগুলোতে প্রোটিন ও ফাইবার থাকার দাবি করা হলেও সব এনার্জি বার সমান নয়। অনেক পণ্যে চিনি, সিরাপ, চকোলেট কোটিং ও অন্যান্য উপাদান যোগ করা থাকে।ফলে স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস হিসেবে বাজারজাত হলেও কোনো কোনো এনার্জি বারে চিনির পরিমাণ বেশ বেশি থাকতে পারে। কেনার আগে পুষ্টি উপাদানের তালিকা ও চিনি কতটা রয়েছে, তা দেখে নেওয়া ভালো।

স্বাদযুক্ত দই

দই প্রোটিন, ক্যালসিয়াম ও কিছু উপকারী ব্যাকটেরিয়ার উৎস হতে পারে। কিন্তু ফলের সিরাপ, বাড়তি চিনি ও কৃত্রিম স্বাদ যোগ করা হলে এর পুষ্টিগুণের হিসাব বদলে যেতে পারে। তাই চিনি কম রাখতে চাইলে মিষ্টি বা অতিরিক্ত স্বাদযুক্ত দইয়ের বদলে সাধারণ টকদই বেছে নেওয়া যেতে পারে। চাইলে এতে নিজে তাজা ফল যোগ করা যায়।

প্যাকেটজাত ফলের রস

ফলের রসকে অনেকেই প্রতিদিন ফল খাওয়ার সহজ বিকল্প মনে করেন। কিন্তু পুরো ফলের তুলনায় ফলের রসে ফাইবার কম থাকে এবং দ্রুত বেশি পরিমাণ চিনি গ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়। কিছু প্যাকেটজাত জুসে আবার বাড়তি চিনিও থাকতে পারে।

তাই সম্ভব হলে ফলের রসের পরিবর্তে আস্ত ফল খাওয়াই ভালো বিকল্প।

‘লো-ফ্যাট’ খাবার

প্যাকেটে ‘লো-ফ্যাট’ লেখা থাকলেই খাবারটি স্বাস্থ্যকর—এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। কোনো পণ্য থেকে চর্বি কমানোর পর স্বাদ ও গঠন ঠিক রাখতে চিনি, লবণ বা স্টার্চের মতো উপাদান বাড়ানো হতে পারে। তাই শুধু সামনের লেবেল না দেখে প্যাকেটের পেছনের উপাদান তালিকা ও পুষ্টি তথ্য দেখে খাবার নির্বাচন করা উচিত।

ভেজিটেবল চিপস

বিট, পালং শাক বা মিষ্টি আলুর চিপস শুনতে সাধারণ আলুর চিপসের তুলনায় স্বাস্থ্যকর মনে হতে পারে। কিন্তু এগুলো অনেক সময় তেল, স্টার্চ ও লবণ ব্যবহার করে তৈরি বা ভাজা হয়। ফলে পণ্যে সবজির উপাদান থাকলেও তা তাজা বা কম প্রক্রিয়াজাত সবজি খাওয়ার বিকল্প নয়। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় তাজা সবজি রাখাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

খাবার কেনার সময় কী দেখবেন?

কোনো খাবার স্বাস্থ্যকর কি না, তা শুধু প্যাকেটের সামনের ‘হেলদি’, ‘ন্যাচারাল’ বা ‘লো-ফ্যাট’ শব্দ দেখে নির্ধারণ না করাই ভালো। উপাদান তালিকা, যোগ করা চিনি, লবণ, ফাইবার ও মোট ক্যালরির পরিমাণ দেখে পণ্য নির্বাচন করা উচিত। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—একটি খাবারকে পুরোপুরি ভালো বা খারাপ হিসেবে দেখার বদলে সেটি কতটা প্রক্রিয়াজাত, কী পরিমাণে খাওয়া হচ্ছে এবং সামগ্রিক খাদ্যতালিকায় তার অবস্থান কী, তা বিবেচনা করা।