খাল-বিলে এসেছে পর্যাপ্ত পানি

সীতাকুণ্ডে বাড়ছে দেশীয় মাছের উৎপাদন

Sadek Ali
মো. নাছির উদ্দিন. সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম)
প্রকাশিত: ১২:৫৯ অপরাহ্ন, ০৮ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১২:৫৯ অপরাহ্ন, ০৮ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

সীতাকুণ্ডে বর্ষার আগমণে পুকুর-জলাশয়, খাল-বিলে এসেছে পর্যাপ্ত পানি। বাড়ছে দেশীয় মাছের উৎপাদন। উপজেলার বড় দারোগারহাট থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত বিভিন্ন হাট বাজারগুলোতে এখন কৈ, শিং, মাগুর, বোয়াল, বেলে, পাবদা, টেংরা, পুটি, টাকি, চিতল, আইর, শোল, বাইম ও মলার মতো সুস্বাদু দেশীয় মাছ দেখা যাচ্ছে । সামুিদ্রক বা দেশীয় মাছের বাড়তি উৎপাদনে বাজারে কমছে হাইব্রিড জাতের মাছের উপস্থিতি। উপজেলাব্যাপী অপরিকল্পিত নগরায়ন শিল্পায়ন, পুকুর-জলাশয় ভরাটে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় মাছের বিচরণ ক্ষেত্র। কৃষিতে অধিক ফলনের আশায় মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক প্রয়োগে উজাড় হচ্ছে রেনু পোনা। এতে স্থানীয় হাটবাজারে খুব কমই দেখা মিলছে চিরচেনা দেশীয় সুস্বাদু প্রজাতির মাছ।

এ বর্ষায় উৎপাদন বাড়ায় বাজারে এখন দেশীয় প্রজাতির মাছ দেখা গেলেও চাহিদার তুলনায় তা খুবই স্বল্প। পূর্ব সৈয়দপুর থেকে কাজী এনামুল বারী বলেন, মিঠা পানির দেশীয় প্রজাতির মাছের উৎপাদন হ্রাস পাওয়ায় বাজার দখল করছে পুকুরে উৎপাদিত হাইব্রিড মাছ। হাইব্রিড জাতের মাছ চাষে অধিকাংশ পুকুরে প্রয়োগ করা হচ্ছে বিষাক্ত মানহীন ক্যামিকেল মিশ্রিত খাদ্য। তাতে এক দিকে ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়েছে পুকুরের পানি অপর দিকে স্বাদে হারিয়ে যাচ্ছে শত শত বছরের ঐতিহ্য ও জৌলুস। এ বর্ষায় খাল-বিল পুকুর-জলাশয়ে পর্যাপ্ত পানি আসায় বাড়ছে দেশীয় মাছের উৎপাদন। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. এস. এম সাইফুল আলম বলেন, বিষাক্ত ক্যামিকেল মিশ্রিত খাদ্যে উৎপাদিত হাইব্রীড মাছগুলো একদিকে স্বাদহীন অপর দিকে ছড়া”েছ রোগব্যাধি। তাতে দেশীয় মাছের উৎপাদন বাড়ানো খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে।

আরও পড়ুন: গরুবাহী নসিমনের সঙ্গে বাসের সংঘর্ষে ৩ জন নিহত

সীতাকুণ্ড পৌরসভার ২নং ওয়ার্ড হাজ্বীপাড়া থেকে পৌরসদর স্বর্ণ ব্যবসায়ী নুর মোহাম্মদ বলেন, সীতাকুণ্ড বাজারে বাড়ছে সামুদ্রিক ও দেশীয় মাছের চাহিদা। সামুদ্রিক ও মিঠা পানির দেশীয় মাছের প্রচুর চাহিদা থাকলেও উৎপাদন অনেকটা কম। তবে এ বর্ষায় বাজারে দেশীয় মাছ পাওয়া যাচ্ছে। উপজেলা দলিল লেখক সমিতির প্রধান উপদেষ্টা মোঃ আবুল মুনছুর বলেন, প্রাকৃতিক বৈরী আবহাওয়ায় প্রভাব পড়ছে দেশীয় মাছের উৎপাদনে। এখন বর্ষামৌসুমে এলাকার অধিকাংশ খাল-বিল, পুকুর-জলাশয় পানিতে ভরপুর থাকায় বাড়ছে দেশীয় মাছের উৎপাদন। আড়ৎদার মো. জাবেদ আলী বলেন বাজারে দেশীয় মাছের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। তবে বর্ষার প্রভাবে এখন সাময়িক উৎপাদন বেড়েছে।

উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বর্ষায় দেশীয় প্রজাতির মাছের উৎপাদন বেড়েছে। অপরিকল্পিত নগরায়ন শিল্পায়ন ও পুকুর-জলাশয় ভরাটে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় মাছের বিচরণ ক্ষেত্র। যার প্রভাব পড়ছে উৎপাদনে। উপজেলা মৎস্য অফিস দেশীয় সুস্বাদু মাছ সংরক্ষণে কাজ করে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন: সিরাজগঞ্জে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ১২