বগুড়ায় সন্ত্রাসী আস্তানা থেকে দেশী বিদেশী অস্ত্র ও মাদকসহ গ্রেফতার-৩

Sanchoy Biswas
বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৫:১৪ অপরাহ্ন, ০২ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৩:১৮ পূর্বাহ্ন, ০৩ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বগুড়ায় সন্ত্রাসীদের আস্তানা থেকে দেশী বিদেশী অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য সহ ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে বগুড়া জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। 

গতকাল (২রা আগস্ট) রবিবার দিবাগত রাতে বগুড়া সদর উপজেলার ঠেঙ্গামারা (টিএমএসএস) মাটিডালা এলাকার করতোয়া নদীর তীরে জঙ্গল ঘেরা একটি দুর্গম আস্তানায় অভিযান চালিয়ে একটি সন্ত্রাসী চক্রকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এসময় সন্ত্রাসী চক্রের প্রধানসহ ০৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়। ঘটনা স্থল থেকে ০১টি বিদেশি রিভলভার, দেশীয় অস্ত্র, মাদকদ্রব্য ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও নির্যাতনে ব্যবহারের অভিযোগ থাকা একটি উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন বৈদ্যুতিক শকার উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা যায়।

আরও পড়ুন: টং দোকানে এইচএসসির উত্তরপত্র মূল্যায়নের অভিযোগ, এক বস্তা খাতা জব্দ

ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা যায় যে, দীর্ঘদিন ধরে করতোয়া নদীর তীরে একটি পেপার মিল ও ঠেঙ্গামাড়া (টিএমএসএস) এর কারখানার পিছনের নির্জন এলাকায় তাবু ও পলিথিন দিয়ে তৈরি অস্থায়ী আস্তানায় অবস্থান করে একটি সন্ত্রাসী চক্র বিভিন্ন অপরাধ মূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। চক্রটি মাদক কারবারের পাশাপাশি অপহরণ করে ভয়ভীতি ও নির্যাতনের মাধ্যমে অর্থ আদায় করতো।

বিষয়টি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বগুড়া পুলিশ সুপার (এসপি) মির্জা সায়েম মাহমুদের নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় সন্ত্রাসী চক্রের প্রধান রকি ও তার সহযোগী রাকিবসহ ০৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তবে অভিযানের বিষয়টি জানতে পেরে আরও ৫/৭ সদস্য করতোয়া নদী সাঁতরে পালিয়ে যান বলে জানা যায়।

আরও পড়ুন: নান্দাইলের সাবেক এমপি তুহিনসহ ৩০ জনের নামে মামলা, গ্রেপ্তার ৪

ঘটনা স্থল থেকে উদ্ধারকৃত আলামতের মধ্যে ০১টি বিদেশি রিভলভার, ০৩টি চায়নিজ কুড়াল, ০১টি ধারালো চাপাতি, কয়েকটি দেশীয় অস্ত্র, বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও ২৫ হাজার ভোল্ট ক্ষমতা সম্পন্ন ০১টি বৈদ্যুতিক শকার। যা অপহরণ করে আনা ব্যক্তিদের নির্যাতনে এটি ব্যবহার করা হতো।

এবিষয়ে বগুড়া গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পুলিশের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর ইকবাল বাহার বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং বলেন যে, গ্রেফতারকৃত রকি ও রাকিবের বিরুদ্ধে পূর্বে থেকেই অস্ত্র, মাদক ও ফেন্সিডিলের একাধিক মামলা চলমান আছে। উক্ত আসামিরা পূর্বে থেকে গ্রেফতার হয়ে জামিনে ছিলেন। পরবর্তীতে তারা জনসম্মুখ ছেড়ে নদীর তীরে দুর্গম এলাকায় আস্তানা গাড়ে এবং আবারও অপরাধ মূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে আর পালিয়ে যাওয়া অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত আছে বলে জানান তিনি।