শতাব্দীর সেরা সূর্যগ্রহণের সাক্ষী হলো পৃথিবী

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৯:০৪ পূর্বাহ্ন, ১৩ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৩:০৪ অপরাহ্ন, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ইউরোপ, আটলান্টিক মহাসাগরীয় অঞ্চল এবং উত্তর আমেরিকার কিছু অংশে আজ দেখা যাচ্ছে বিরল পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। চাঁদের ছায়ায় সূর্য পুরোপুরি ঢেকে যাওয়ার এই মহাজাগতিক দৃশ্য বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে দেখা গেলেও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ থেকে এটি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না।

বাংলাদেশ সময় বুধবার রাত ৯টা ৩৪ মিনিটে শুরু হয়েছে সূর্যগ্রহণ। পুরো প্রক্রিয়াটি প্রায় ২৬৪ মিনিট ধরে চলবে। রাশিয়ার উত্তর মেরু অঞ্চল থেকে শুরু হওয়া চাঁদের ছায়া গ্রিনল্যান্ডের উপকূল হয়ে আইসল্যান্ডের দিকে অগ্রসর হয়েছে। আইসল্যান্ডের রাজধানী রেইকিজাভিকে পূর্ণগ্রাস হিসেবে গ্রহণটি দৃশ্যমান হচ্ছে।

আরও পড়ুন: হুতি হামলায় বিপর্যস্ত সৌদি

জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাবে, ১৯৫৪ সালের পর এই প্রথম আইসল্যান্ড থেকে এমন পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যাচ্ছে। একই সঙ্গে ২১৯৬ সালের আগে দেশটির মানুষ আর এমন পূর্ণগ্রাস দেখার সুযোগ পাবেন না বলে জানানো হয়েছে। শেষ পর্যায়ে স্পেনের উত্তরাঞ্চল, পর্তুগাল ও বালেয়ারিক দ্বীপপুঞ্জে সূর্যাস্তের কিছু আগে পূর্ণগ্রাসের পর্ব শেষ হবে।

যদিও পূর্ণগ্রাসের সর্বোচ্চ স্থায়িত্ব মাত্র ২ মিনিট ১৮ সেকেন্ড, বিশ্বের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে আংশিক সূর্যগ্রহণও দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডের বিভিন্ন এলাকায় সূর্যের ৯০ থেকে ৯৬ শতাংশ পর্যন্ত অংশ চাঁদের আড়ালে চলে যাচ্ছে। কানাডা, আলাস্কা এবং যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলেও আংশিক গ্রহণ পর্যবেক্ষণ করা যাচ্ছে।

আরও পড়ুন: অর্থনীতিতে নোবেল জয় করলেন রবার্ট হল, মাইকেল উডফোর্ট

পূর্ণগ্রাসের সময় চাঁদ যখন সূর্যকে সম্পূর্ণ ঢেকে ফেলে, তখন দিনের আলো সাময়িকভাবে গোধূলির মতো অন্ধকার হয়ে যায়। কয়েক মিনিটের জন্য তাপমাত্রাও কিছুটা কমে গিয়ে পরিবেশে শীতল অনুভূতি তৈরি হয়। বিজ্ঞানীদের জন্য এই সময়টি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সূর্যের তীব্র আলো আড়াল হয়ে যাওয়ায় তখন এর বাইরের বায়ুমণ্ডল বা ‘করোনা’ স্পষ্টভাবে পর্যবেক্ষণ করা যায়। সূর্যের গঠন ও বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে গবেষণায় এ দৃশ্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে।

বাংলাদেশ থেকে সরাসরি এই সূর্যগ্রহণ দেখার সুযোগ না থাকলেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণা সংস্থার লাইভ সম্প্রচারের মাধ্যমে মহাজাগতিক এই দৃশ্য উপভোগ করা যাচ্ছে। অনলাইনেও এ নিয়ে মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। গুগল অ্যাপ বা ক্রোম ব্রাউজারে ‘solar-eclipse 2026’ লিখে সার্চ করলেও ব্যবহারকারীরা এ বিষয়ে বিশেষ গ্রাফিক্যাল প্রদর্শন দেখতে পারছেন।

এর আগে দুই বছর আগে উত্তর আমেরিকায় পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা গিয়েছিল। এবারের গ্রহণ ইউরোপের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ মহাদেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে দীর্ঘ কয়েক দশক পর আবারও পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দৃশ্যমান হচ্ছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলছেন, আগামী কয়েক বছরে এ ধরনের বড় পরিসরের মহাজাগতিক দৃশ্য তুলনামূলকভাবে বিরলই থাকবে।