ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীদের ৪ দফা দাবি, আগস্টজুড়ে কর্মসূচি ঘোষণা

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৪:৪৮ অপরাহ্ন, ১০ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৬:০৫ অপরাহ্ন, ১০ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

পেশাগত নিবন্ধন, ‘ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল টেকনোলজি (ডেন্টাল)’ কোর্সের নাম পরিবর্তন করে ‘ডিপ্লোমা ইন ডেন্টাল’ করা, উচ্চশিক্ষার সুযোগ পুনরায় চালু, সরকারি শূন্যপদে দ্রুত নিয়োগ ও নতুন পদ সৃষ্টিসহ চার দফা দাবি জানিয়েছে ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারী শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের সংগঠন।

সোমবার (১০ আগস্ট) ঢাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে অন্যান্য সমমানের ডিপ্লোমাধারীদের মতো ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীদের চাকরিতে ১০ম গ্রেড দেওয়ার দাবিও জানানো হয়।

আরও পড়ুন: হাম ও উপসর্গে আরও ৪ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৬৭৭

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদের মাধ্যমে ১৯৬৩ সাল থেকে চার বছর মেয়াদি ডেন্টাল ডিপ্লোমা কোর্স পরিচালিত হয়ে আসছে। বর্তমানে সরকারি পর্যায়ের ২৩টি ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি (আইএইচটি) এবং বেসরকারি পর্যায়ের শতাধিক প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিবছর প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ শিক্ষার্থী এ কোর্স সম্পন্ন করছেন।

তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে কোর্সটি পরিচালিত হলেও ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীদের পেশাগত নিবন্ধন এখনো নিশ্চিত হয়নি। ১৯৮৩ সাল থেকে এ বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ে উদ্যোগ নেওয়া হলেও কার্যকর সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।

আরও পড়ুন: হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ১,২১৮

সংগঠনের আহ্বায়ক তানভীর আহমেদ বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রণীত এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় চূড়ান্ত করা নির্ধারিত ওয়ার্কিং সার্কেলের আওতায় তৃণমূল পর্যায়ে দন্তসেবা দেওয়ার সুযোগ থাকলেও পেশাগত নিবন্ধন না থাকায় ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীরা বিভিন্ন ধরনের পেশাগত প্রতিবন্ধকতা ও হয়রানির মুখোমুখি হচ্ছেন।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয়ভাবে অনুমোদিত চার বছর মেয়াদি কোর্স সম্পন্নকারীদের জন্য সুস্পষ্ট পেশাগত পরিচয় ও নিবন্ধন নিশ্চিত করা জরুরি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ‘ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল টেকনোলজি (ডেন্টাল)’ কোর্সের নাম পরিবর্তন করে ‘ডিপ্লোমা ইন ডেন্টাল’ করার বিষয়ে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

বক্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ বিষয়ে রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদের অধীন আটটি সরকারি আইএইচটির অধ্যক্ষ ও কোর্স কো-অর্ডিনেটরদের মতামত নেওয়া হয়। এর মধ্যে সাতটি আইএইচটির অধ্যক্ষ ও কোর্স কো-অর্ডিনেটর প্রস্তাবিত নামের পক্ষে মতামত দিয়েছেন। পরে রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগে চিঠি পাঠায়। বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছেও মতামত চাওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।

সংগঠনের মুখপাত্র তানজিনা ইয়াসমিন মারিয়া বলেন, ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত রয়েছে। তার দাবি, ১৯৭৮ সালে ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীদের বিডিএস কোর্সে ভর্তির সুযোগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল এবং তাদের জন্য দুটি আসন সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা কার্যকর হয়নি বলে তিনি জানান।

বক্তারা বলেন, চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্নকারীদের জন্য ল্যাটারাল এন্ট্রির মাধ্যমে উচ্চশিক্ষার সুযোগ থাকলেও ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীদের জন্য এ ধরনের কার্যকর কাঠামো নেই। তাই ল্যাটারাল এন্ট্রি ফ্রেমওয়ার্ক ও প্রয়োজনীয় ক্রেডিট মওকুফ নীতির মাধ্যমে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পুনরায় চালুর দাবি জানান তারা।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা জানান, বর্তমানে সরকারি পর্যায়ে ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীদের পদসংখ্যা প্রায় ৬৫০টি। বিপরীতে এ পর্যন্ত পাঁচ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী এ কোর্স সম্পন্ন করেছেন। নিয়মিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি না হওয়ায় কর্মসংস্থানপ্রত্যাশী ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীর সংখ্যা বাড়ছে বলে দাবি করেন তারা।

তাদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে সরকারি শূন্যপদে দ্রুত নিয়োগ, জনস্বাস্থ্যের প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন পদ সৃষ্টি এবং অন্যান্য সমমানের ডিপ্লোমাধারীদের মতো ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীদের চাকরিতে ১০ম গ্রেড প্রদান।

দাবি বাস্তবায়নে ধারাবাহিক কর্মসূচিও ঘোষণা করেছে সংগঠনটি। ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে—


১২ আগস্ট: স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব বরাবর সংশ্লিষ্ট অধ্যক্ষদের মাধ্যমে স্মারকলিপি প্রদান।

১৬ আগস্ট: ছাত্র-পেশাজীবী সমন্বয় সভা।

১৯ আগস্ট: সংশ্লিষ্ট জেলার প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও ‘র‍্যালি ফর রিকগনিশন’।

২৩ আগস্ট: সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি।

৩০ আগস্ট: জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন শেষে বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদে অবস্থান কর্মসূচি।


বক্তারা জানান, এসব কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে পালন করা হবে। নির্ধারিত কর্মসূচির মধ্যেও দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে ছাত্র-পেশাজীবীদের সমন্বয়ে আরও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, তারা কোনো পেশার বিরুদ্ধে নন এবং কারও অধিকার কেড়ে নিতে চান না। চার বছর মেয়াদি রাষ্ট্রীয়ভাবে পরিচালিত কোর্স সম্পন্ন করার পর পেশাগত পরিচয়, নিবন্ধন, উচ্চশিক্ষা, কর্মসংস্থান ও মর্যাদাপূর্ণ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করাই তাদের মূল দাবি।

সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি বিষয়গুলো দ্রুত পর্যালোচনা করে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে দন্তসেবা নিশ্চিত করতে প্রশিক্ষিত ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীদের যথাযথভাবে কাজে লাগানো সম্ভব।