মৃত্যুদণ্ডের বিধান বহাল থাকায় প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য দেয়নি জাতিসংঘ: ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউটর

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৭:৫৫ অপরাহ্ন, ০৬ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৮:৩৫ অপরাহ্ন, ০৬ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে মৃত্যুদণ্ডের বিধান বহাল থাকায় জাতিসংঘ তাদের ‘ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং’ প্রতিবেদনে ব্যবহৃত প্রত্যক্ষদর্শীদের পরিচয় ও তথ্য প্রসিকিউশনের কাছে সরবরাহ করেনি বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ একটি মামলার শুনানিকালে তিনি এ তথ্য জানান।

আরও পড়ুন: তনু হত্যা মামলায় হাফিজুর রহমানের জামিন স্থগিত, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ

ট্রাইব্যুনাল-২-এ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে করা মামলায় প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়। ওই সময় প্রসিকিউটর মোনাওয়ার হুসাইন তামীম বিষয়টি তুলে ধরেন।

যুক্তিতর্কে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ১৪ থেকে ১৭ জুলাই পর্যন্ত আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের নির্দেশে সশস্ত্র ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালায়। এ বিষয়টি জাতিসংঘের ‘ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং’ প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

আরও পড়ুন: শাপলা চত্বরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় লতিফ সিদ্দিকী কারাগারে

প্রসিকিউটর আরও বলেন, জাতিসংঘের প্রতিবেদনে সাক্ষীদের রেফারেন্স বা তথ্যসূত্র সংরক্ষিত রয়েছে। তবে জাতিসংঘ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন থেকে মৃত্যুদণ্ডের বিধান প্রত্যাহার করা হলে তারা প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য সরবরাহ করবে। সে কারণে প্রসিকিউশন জাতিসংঘের মাধ্যমে প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য পায়নি। তবে তারা নিজেদের পক্ষ থেকে প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য উপস্থাপন করছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সংঘটিত ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর (ওএইচসিএইচআর) একটি ‘ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং’ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে ওই সময় সংঘটিত নৃশংসতা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের দায়ী করা হয়।

প্রতিবেদন প্রস্তুতের অংশ হিসেবে জাতিসংঘের অনুসন্ধানী দল ঢাকা, চট্টগ্রাম, রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, বগুড়া, সিলেট ও গাজীপুরসহ আটটি শহরে তদন্ত পরিচালনা করে। এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে ২৩০টির বেশি সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। পাশাপাশি সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিসহ ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে অবগত আরও ৩৬ জনের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হয়।

প্রসিকিউটর জানান, ট্রাইব্যুনাল আইনে মৃত্যুদণ্ডের বিধান বহাল থাকায় ওই প্রত্যক্ষদর্শীদের পরিচয় ও তথ্য জাতিসংঘ সরবরাহ করেনি। উল্লেখ্য, জাতিসংঘ দীর্ঘদিন ধরেই সব ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড বিলুপ্তির পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে।

আজকের শুনানিতে ওবায়দুল কাদের ছাড়াও আসামি হিসেবে রয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ। মামলার সব আসামিই বর্তমানে পলাতক।