রাবি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, রাজশাহী রেলস্টেশনে ভাঙচুর

Shahrier Islam Pallab
রাজশাহী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৮:৫৩ পূর্বাহ্ন, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ২:৫৮ অপরাহ্ন, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্টেশনে ভাঙচুর করেছে শিক্ষার্থীরা। 

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টায় ওই শিক্ষার্থীকে মারধরের পরে রাত ১২টার দিকে স্টেশনে ভাঙচুর চালান তারা। এই ঘটনায় রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর চার সদস্যকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ঢাবিতে আরবি ভাষা শিক্ষা কোর্সের উন্নয়নে জর্ডানের বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সহযোগিতার আলোচনা

মারধরের শিকার ওই শিক্ষার্থী ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আইয়ুব আলী। বর্তমানে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

জানা গেছে, আইয়ুব আলী তার চাচাকে স্টেশন থেকে নিয়ে আসতে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে গিয়েছিলেন। সেখানে রাবির ইংরেজি বিভাগের দুই শিক্ষার্থীর সঙ্গে দায়িত্বরত রেলওয়ে নিরাপত্তাকর্মীদের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আইয়ুব ওই শিক্ষার্থীদের পক্ষে কথা বললে তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

আরও পড়ুন: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কে শহীদ জিয়ার মূল লক্ষ্য ও আদর্শে পুনঃপ্রতিষ্ঠায় কাজ চলছে: উপাচার্য

ঘটনার প্রতিবাদে রাত ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন রেললাইনে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় রাজশাহীগামী ধূমকেতু এক্সপ্রেস হরিয়ান এলাকায় আটকা পড়ে। পরে শিক্ষার্থীরা রেললাইন ধরে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের দিকে এগিয়ে যান। পরে রাত ১২টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা কয়েক দফায় ভাঙচুর চালান। তারা গাছের ডাল, বাঁশ, লাঠি ও ইট-পাটকেল দিয়ে স্টেশনের কাচের জানালা, ডাস্টবিন, দোকানপাট, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কক্ষ, সাইনবোর্ড ও সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করেন। রেলওয়ে থানা, পার্সেল অফিস ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যালয়েও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে রাত দেড়টার দিকে প্রক্টরিয়াল বডির প্রচেষ্টায় স্টেশন ত্যাগ করেন শিক্ষার্থীরা।   

আইয়ুবের সহপাঠী মোহাম্মদ মিজান বলেন, রেলস্টেশনে রাবির কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে রেলওয়ের কর্মচারীদের বাকবিতণ্ডা হচ্ছিল। পরে আইয়ুব তাদের পক্ষে কথা বলায় তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেওয়ার পর তাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি শান্ত করা সম্ভব হয়েছে। শিক্ষার্থীরা বিষয়টি বুঝতে পেরে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে ক্যাম্পাসে ফিরে গেছে। আশা করি, সবাই নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্বশীল আচরণ করবেন এবং ভবিষ্যতে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না।

এ বিষয়ে পশ্চিম রেলের মহাপরিচালক আহম্মদ হোসেন মাসুম বলেন, এ ধরনের সহিংসতা কাম্য নয়। শিক্ষার্থীকে ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে পাঠানো হচ্ছে। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।