চিয়া সিড সবার জন্য নয়: যাদের খাওয়া উচিত নয়, জানুন সম্ভাব্য ঝুঁকি

Any Akter
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ২:৩৪ অপরাহ্ন, ২৮ অক্টোবর ২০২৫ | আপডেট: ৭:১২ অপরাহ্ন, ০৩ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

সুপারফুড’ হিসেবে পরিচিত চিয়া সিড স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের কাছে এখন বেশ জনপ্রিয়। এতে রয়েছে ফাইবার, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, প্রোটিন ও খনিজ যা হৃদযন্ত্র, হজম ও রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আরও পড়ুন: ইমপ্লান্টেশন ব্লিডিং নাকি গর্ভপাত? পার্থক্য বোঝার উপায় জানুন

তবে পুষ্টিগুণে ভরপুর হলেও চিয়া সিড সবার জন্য নিরাপদ নয়। কিছু নির্দিষ্ট শারীরিক অবস্থায় এটি উপকারের চেয়ে বরং ক্ষতিকর হতে পারে। নিচে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী কোন কোন ক্ষেত্রে চিয়া সিড এড়ানো উচিত তা তুলে ধরা হলো

আরও পড়ুন: শিশুর দুধ দাঁতের যত্ন কেন জরুরি? অবহেলা করলে হতে পারে দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা

১. নিম্ন রক্তচাপ থাকলে সাবধান

চিয়া সিড রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। কিন্তু যাদের ইতিমধ্যেই রক্তচাপ কম (হাইপোটেনশন), তাদের ক্ষেত্রে এটি বিপজ্জনক হতে পারে।

এতে মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, ক্লান্তি এমনকি অজ্ঞান হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। তাই নিম্ন রক্তচাপ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া চিয়া সিড খাওয়া এড়িয়ে চলা উচিত।

২. রক্ত পাতলা করার ওষুধ খেলে

চিয়া সিডে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের রক্ত পাতলা করার প্রভাব রয়েছে। ফলে যারা অ্যাসপিরিন, ওয়ারফারিন বা অন্য অ্যান্টিকোয়াগুলেন্ট ওষুধ গ্রহণ করেন, তাদের ক্ষেত্রে রক্ত জমাট বাঁধার ক্ষমতা কমে যেতে পারে।

এর ফলে আঘাত বা রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই এমন ওষুধ খেলে চিয়া সিড খাওয়ার আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

৩. গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সমস্যা থাকলে

গ্যাস, পেট ফাঁপা, আইবিএস (Irritable Bowel Syndrome) বা কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো হজমজনিত সমস্যা থাকলে চিয়া সিড সমস্যা বাড়াতে পারে।

চিয়া সিডে থাকা দ্রবণীয় ফাইবার পানি শোষণ করে পেটে ফুলে ওঠে, ফলে অস্বস্তি, গ্যাস, ডায়রিয়া বা পেট ব্যথা দেখা দিতে পারে। তাই এসব সমস্যায় আগে থেকেই ভুগলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে চিয়া সিড খাওয়া উচিত।

৪. কিডনি সমস্যায় ভুগলে

চিয়া সিডে রয়েছে প্রচুর ফসফরাস ও পটাসিয়াম, যা সাধারণত দেহের জন্য উপকারী হলেও দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

কিডনি দুর্বল হলে এই খনিজ প্রক্রিয়াজাত করতে সমস্যা হয়, যার ফলে হাইপারক্যালেমিয়া (রক্তে অতিরিক্ত পটাসিয়াম) হতে পারে। এতে হৃদযন্ত্রের অনিয়মিত স্পন্দনসহ গুরুতর জটিলতা দেখা দিতে পারে।

সঠিক পরিমাণে খাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ

চিয়া সিড সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই, তবে দৈনিক ১২ চা চামচের বেশি খাওয়া ঠিক নয়। সঠিক পরিমাণ ও শরীরের উপযোগিতা অনুযায়ী এটি খেলে উপকার পাওয়া যায়।

যাদের রক্তচাপ, কিডনি, বা হজমজনিত সমস্যা রয়েছে, তারা নিয়মিত চিয়া সিড খাওয়ার আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন।