প্রধান উপদেষ্টার অভিনন্দন

জুলাই কন্যারা যুক্তরাষ্ট্রের ‘আন্তর্জাতিক সাহসী নারী’ পুরস্কার পেলেন

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:০৬ পূর্বাহ্ন, ৩০ মার্চ ২০২৫ | আপডেট: ১:০২ অপরাহ্ন, ৩০ মার্চ ২০২৫
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বাংলাদেশের সাহসী নারী সংগ্রামী দল, যারা ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে সহিংস দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে ছাত্র বিক্ষোভ আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘আন্তর্জাতিক সাহসী নারী’ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। তারা ‘মেডেলিন অলব্রাইট অনারারী গ্রুপ’ পুরস্কারটি পেয়েছেন, যা তাদের সাহসিকতা, নেতৃত্ব এবং সংকটময় সময়ে তাদের অটল সংকল্পের প্রতি সম্মান জানায়।

মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট শুক্রবার এই পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছে এবং আগামী মঙ্গলবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত বার্ষিক আন্তর্জাতিক সাহসী নারী পুরস্কার অনুষ্ঠানে তাদের সম্মানিত করবেন।

আরও পড়ুন: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার নামে ভুয়া অডিও কল: মন্ত্রণালয়ের কঠোর প্রতিবাদ

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে বাংলাদেশে যখন সহিংস দমন-পীড়ন চলছিল, সেই সময়ে ছাত্র বিক্ষোভের মূল চালিকাশক্তি হয়ে ওঠা এই নারী নেতারা অবিশ্বাস্য সাহসিকতা প্রদর্শন করেন। তাদের মধ্যে কিছু নারী, যারা বিপদসঙ্কুল পরিস্থিতির মধ্যে দাঁড়িয়ে অসাধারণ নেতৃত্ব দিয়েছেন, এমনকি ইন্টারনেট বন্ধ হওয়ার পরও তারা বিক্ষোভের নেতৃত্ব অব্যাহত রেখেছিলেন। এই নারীরা তাদের সাহসিকতা এবং অটল সংকল্পের মাধ্যমে প্রতিবাদকে শক্তিশালী করেছেন, এমনকি নিরাপত্তা বাহিনী এবং পুরুষ বিক্ষোভকারীদের থেকে শারীরিক হুমকি ও সহিংসতা সত্ত্বেও।

এই অর্জনের পর, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, শান্তিতে নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, জুলাই কন্যাদের সাহসিকতা এবং ত্যাগের জন্য তাদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। তার পাঠানো বার্তায় তিনি বলেন, "তোমরা যা করেছো, তা শুধু সাহসিকতার উদাহরণ নয়, বরং জাতির জন্য এক নতুন আশা তৈরি করেছে। তোমাদের নেতৃত্ব এবং অটল সংকল্প বাংলাদেশের গণ-অভ্যুত্থানে এক অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করেছে।"

আরও পড়ুন: নুরুল হক নুর ও তার দলের ওপর হামলা, নিন্দায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন

অধ্যাপক ইউনূস আরও বলেন, "তোমাদের শক্তি, দৃঢ়তা এবং ত্যাগ আমাদের সকলকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে ন্যায়বিচারের জন্য সংগ্রাম কখনোই সহজ নয়, তবে তা সবসময় সার্থক হয়। তোমরা বিশ্বের কাছে প্রকৃত নেতৃত্ব এবং ত্যাগের প্রকৃত মানে প্রদর্শন করেছে, যা বাংলাদেশের জন্য একটি উজ্জ্বল এবং ন্যায়সংগত ভবিষ্যতের দিকে পথ সুগম করেছে।"

প্রধান উপদেষ্টা তার বার্তায় বলেন, "আজ আমরা তোমাদের প্রত্যেকের প্রতি গভীর গর্ব অনুভব করি এবং তোমাদের অর্জন আমাদের দেশ ও জাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তোমাদের মতো সাহসী নারী নেতাদের কারণে বাংলাদেশ আরও শক্তিশালী এবং ন্যায়বিচারের পথে এগিয়ে যাবে।"

অধ্যাপক ইউনূস বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাপী এই নারীদের সংগ্রাম এবং ত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে আরও বলেন, "তোমরা শুধু একটি দেশকে নয়, বরং পৃথিবীকে দেখিয়েছো যে, প্রকৃত সাহস, নেতৃত্ব এবং ত্যাগ কীভাবে হতে হয়।"