প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি, ছয় প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন
প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনা ও আশপাশের এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। একই সঙ্গে যমুনার নিরাপত্তা জোরদারে কাকরাইল মসজিদ ও হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল এলাকায় ছয় প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে।
শুক্রবার সকালে সরকারি চাকরিতে নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও তা ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকরের দাবিতে আন্দোলনরত সরকারি কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে মিছিল নিয়ে অগ্রসর হন। প্রথমে শাহবাগ এলাকায় তাদের বাধা দেয় পুলিশ। এতে তারা পিছু না হটলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালায়।
আরও পড়ুন: যমুনা ঘিরে উত্তেজনা, নিরাপত্তায় রাজধানীতে ৬ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন
এর আগে সকাল থেকেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সরকারি কর্মচারীদের সমাবেশ শুরু হয়। বেলা ১১টার দিকে সেখান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল শাহবাগের দিকে অগ্রসর হলে পুলিশ বাধা দেয়। একপর্যায়ে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে। এতে আন্দোলনকারীরা সাময়িকভাবে ছত্রভঙ্গ হলেও পরে তারা আবার একত্রিত হন।
পরবর্তীতে আন্দোলনকারীরা যমুনার দিকে এগোতে থাকলে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে আবারও তাদের বাধা দেওয়া হয়। এ সময় কয়েক দফায় টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পুলিশ। সংঘর্ষে কয়েকজন আন্দোলনকারী আহত হন বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুন: ইনকিলাব মঞ্চের জাবেরসহ কেউ গুলিবিদ্ধ হননি, হাদি হত্যার জাতিসংঘের তদন্ত পর্যালোচনা হচ্ছে
‘সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ’-এর ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে নবম পে-স্কেলের গেজেট দ্রুত প্রকাশ এবং তা চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকরের দাবি জানানো হয়েছে।
দাবি আদায়ে এর আগে টানা তিন দিন প্রতিদিন দুই ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করেন সরকারি কর্মচারীরা। পরে বৃহস্পতিবার চার ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করা হয়। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী শুক্রবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে মিছিল বের করা হয়।
আন্দোলনকারীরা জানান, সময় বাড়িয়ে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চার ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করা হয়েছে। এ সময় সারা দেশে সব সরকারি, আধা সরকারি এবং পে-স্কেলের আওতাভুক্ত দপ্তরে কর্মসূচি পালন করা হয়।





