জাতীয় নির্বাচনে অপচেষ্টা কঠোর হস্তে দমনের নির্দেশ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার

Any Akter
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৪:২৪ অপরাহ্ন, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৪:২৬ অপরাহ্ন, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার যেকোনো অপচেষ্টা কঠোর হস্তে দমন করার জন্য নির্বাচনে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.)।

উপদেষ্টা রোববার দুপুরে রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে 'ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬' সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে রংপুর বিভাগীয় প্রশাসন আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ নির্দেশ দেন।

আরও পড়ুন: শ্রমবাজারে সুনাম রক্ষা ও সনদ জালিয়াতি প্রতিরোধে নির্দেশনা প্রধান উপদেষ্টার

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি'র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন র‌্যাব (এসআইএফ)-এর মহাপরিচালক একেএম শহিদুর রহমান বিপিএম, বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (অপরাধ ও অপস) খন্দকার রফিকুল ইসলাম বিপিএম এবং বিজিবি'র অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপস এন্ড ট্রেনিং) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ সোহরাব হোসেন ভূঁইয়া, এনডিসি, পিএসসি প্রমুখ। মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তৃতা করেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার মোঃ শহিদুল ইসলাম এনডিসি। এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম ও রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোঃ মজিদ আলী বিপিএম।

নির্বাচনে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশ্যে প্রধান অতিথি বলেন, নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না। জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার যেকোনো অপচেষ্টা কঠোর হস্তে দমন করতে হবে। ভোটের আগে, ভোটের দিন এবং ভোট পরবর্তী সময়ে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব প্রদর্শন করতে হবে। তিনি বলেন, আপনাদের সততা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বই হবে এই নির্বাচনের মূল শক্তি। তিনি আরো বলেন, ব্যালট বাক্স ছিনতাই হলে বা ভোটকেন্দ্রে কোনো অনিয়ম হলে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং/সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও প্রিজাইডিং অফিসারসহ কেউ ছাড় পাবে না। তিনি এ সময় জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারিকৃত পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে- এবারের নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজনে ভোটকেন্দ্রের প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে পারবে।

আরও পড়ুন: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সরকারি ছুটি ঘোষণা

উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনে প্রতিবন্ধকতা ও বাধা সৃষ্টি করতে পারে এমন দুষ্কৃতিকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত ও প্রভাবিত করতে পারে এমন যেকোন ধরনের অপতৎপরতা ও কার্যক্রম কঠোর হস্তে দমন করতে হবে। তিনি বলেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনি পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য নির্বাচন পূর্ববর্তী ০৪ (চার) দিন নিবিড় টহল পরিচালনা করতে হবে। চরাঞ্চল ও দুর্গম এলাকায় টহল কার্যক্রম বিভিন্ন বাহিনীর সমন্বয়ে নিবিড়ভাবে পরিচালনা করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বলেন, এবার নির্বাচনে গতানুগতিক বিষয় ছাড়াও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার থাকছে। 'নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ', বডি ওর্ণ ক্যামেরা, সিসিটিভি, ড্রোন সহ অন্যান্য প্রযুক্তির ব্যবহার করা হচ্ছে। তাছাড়া এবারই সবচেয়ে বেশি সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য (প্রায় ৯ লক্ষ) মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি বলেন, এবার প্রিজাইডিং অফিসার সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। তার সঙ্গে একজন অস্ত্রধারী আনসার সহ প্রতিটি কেন্দ্রে কমপক্ষে ৫-৬ জন অস্ত্রধারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবে। তাছাড়া স্ট্রাইকিং ফোর্স ও টহল টিম তো থাকছেই।

তিনি আরো বলেন, যেকোনো কাজের সফলতা নির্ভর করে সঠিক নিয়তের ওপর। তাছাড়া জাতিগতভাবে সকলের চাওয়া হচ্ছে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন। সিনিয়র সচিব এসময় সঠিক নিয়ত, ধৈর্য ও মনোবল অটুট রেখে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ নির্বাচন উপহার দেয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। 

মতবিনিময় সভায় রংপুর বিভাগের সকল জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, আঞ্চলিক/জেলা/উপজেলা নির্বাচন অফিসার ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ও বিজিবি'র রংপুর বিভাগের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সকল উপ-পুলিশ কমিশনার ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন। 

পরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, রংপুর বিভাগের মধ্য দিয়ে আমাদের জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষ্যে বিভাগীয় পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভা শেষ হয়েছে। এ বিভাগের প্রস্তুতি ভালো রয়েছে। তিনি বলেন, রংপুর বিভাগের মানুষ অন্যান্য বিভাগের তুলনায় শান্তিপূর্ণ। তাই এ বিভাগে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে মর্মে আশাবাদ ব্যক্ত করছি। এসময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনে কারচুপির কোনো আশঙ্কা নেই। শতভাগ স্বচ্ছ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।