অন্তর্বর্তী সরকার আমাকে ডিসিদের সঙ্গে মিলিত হওয়ার সুযোগ দেয়নি: রাষ্ট্রপতি
মো. সাহাবুদ্দিন অভিযোগ করেছেন যে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তিনি জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) সঙ্গে বৈঠকের সুযোগ পাননি। রোববার (৩ মে) রাতে বঙ্গভবনে জেলা প্রশাসক সম্মেলনে অংশ নেওয়া ডিসিদের উদ্দেশে বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, গত বছর দায়িত্বে থাকা সরকার তাকে ডিসিদের সঙ্গে মিলিত হওয়ার সুযোগ দেয়নি। তবে বর্তমান নির্বাচিত সরকার সেই প্রথা পুনরায় চালু করায় তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
আরও পড়ুন: শপথ নিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের ৪৯ এমপি
তিনি জেলা প্রশাসকদের জনগণের সেবায় আরও দায়িত্বশীল ও নিবেদিত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তারা সরকারের প্রতিনিধি হলেও মূলত তারা জনগণের সেবক—এ বিষয়টি সর্বদা মনে রাখতে হবে।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, জেলা প্রশাসক সম্মেলন সরকারের নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে। মাঠ পর্যায়ের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক হয়।
আরও পড়ুন: ট্রাফিক আইন ভাঙলে অটো নোটিশ, হাজিরা না দিলে হতে পারে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
বর্তমান প্রেক্ষাপটে জনগণের প্রত্যাশা বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখ করে তিনি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও সেবামুখী প্রশাসন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশনা দেন।
তিনি অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং সহজে সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার ওপর জোর দেন।
বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সংকট মোকাবিলা, বাজার তদারকি জোরদার এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। পাশাপাশি সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত এবং অপচয় রোধের নির্দেশ দেন।
গুজব, অপতথ্য ও অনলাইন অপরাধ দমনে প্রশাসনকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এছাড়া ভূমি ব্যবস্থাপনার আধুনিকীকরণ, নারী ও শিশু সুরক্ষা, যুবসমাজের দক্ষতা উন্নয়ন, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি। প্রশাসনের সব স্তরে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কথাও বলেন।
রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, জেলা প্রশাসকরা পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন ও জনকল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।





