হাওরের কৃষকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে: ডেপুটি স্পীকার

Any Akter
শহীদুল হক
প্রকাশিত: ৫:১৩ অপরাহ্ন, ১৭ মে ২০২৬ | আপডেট: ৬:১৮ অপরাহ্ন, ১৭ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

হাওরাঞ্চলের প্রকৃত সমস্যা চিহ্নিত করতে একটি স্পেশাল টাস্কফোর্স গঠন করতে হবে এবং  হাওরাঞ্চলের মানুষের জীবন ও জীবিকা রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি, টেকসই ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ।  রোববার (১৭ মে) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি-এর শফিকুল কবির মিলনায়তনে নেত্রকোনা সাংবাদিক ফোরাম ঢাকা আয়োজিত “হাওরের দুর্যোগ চাষাভুষার সন্তান গ্রন্থের প্রাসঙ্গিকতা ও করণীয়” শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। হাওরাঞ্চলের প্রাকৃতিক দুর্যোগ, কৃষকের জীবনসংগ্রাম, টেকসই বাঁধ ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

ডেপুটি স্পীকার বলেন, আমি হাওরের সন্তান। আমার জন্ম ও বেড়ে ওঠা হাওরের মাঝখানে। ছোটবেলা থেকেই হাওরের মানুষের কষ্ট, সংগ্রাম ও বঞ্চনার চিত্র আমি কাছ থেকে দেখে আসছি। আমাদের কৃষক ও চাষিরা প্রতিনিয়ত প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। অথচ স্বাধীনতার পর থেকে হাওরাঞ্চলের জন্য কার্যকর ও টেকসই উদ্যোগ খুব কমই গ্রহণ করা হয়েছে।যখন ক্ষতি হয়, তখনই শুধু হাওর নিয়ে আলোচনা হয়। কিন্তু স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজন গবেষণাভিত্তিক পরিকল্পনা ও বাস্তবমুখী উদ্যোগ। ‘চাষাভুষার সন্তান’ গ্রন্থে হাওরাঞ্চলের বাস্তবতা, মানুষের জীবনসংগ্রাম এবং দুর্যোগের বহুমাত্রিক প্রভাব অত্যন্ত প্রাঞ্জলভাবে উঠে এসেছে। এ ধরনের গবেষণাধর্মী গ্রন্থ নীতিনির্ধারণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আরও পড়ুন: সকল মানুষের নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ: খাদ্য প্রতিমন্ত্রী

হাওরাঞ্চলে মৎস্য চাষের নামে নৈরাজ্যের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, তথাকথিত লিজ ব্যবস্থার মাধ্যমে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যক্তি হাওরের সম্পদ দখল করছে। প্রকৃত জেলেরা লিজ পায় না। বিলের মধ্যে বড় বড় গর্ত করে পুকুর তৈরি করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে কৃষকরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা ও নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন।হাওরের কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য পান না। আবার লিজ ব্যবস্থার কারণে তারা মাছও ধরতে পারেন না। এসব অন্যায় ও বৈষম্যের আমি নিজেই সাক্ষী।

ডেপুটি স্পীকার হাওরাঞ্চলের উন্নয়নে কার্যকর পানি ব্যবস্থাপনা, বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা, আগাম বীজ রোপণের উপযোগী প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের সঠিক তালিকা প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে একটি নির্দিষ্ট ছকের মধ্যে দেশ পরিচালিত হচ্ছে। পদে পদে বাধা আসছে। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

আরও পড়ুন: প্রতিটি থানাকে ‘জিরো কমপ্লেইন’ থানা হিসেবে গড়ে তোলা হবে: আরএমপি কমিশনার

তিনি আরও বলেন, আমাদের পূর্বপুরুষেরা যে উদ্দেশ্যে দেশ স্বাধীন করেছেন, সেই চেতনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সবাইকে মিলেমিশে কাজ করে একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।

সেমিনারে মো: আনোয়ারুল হক এমপি, সাংবাদিক, গবেষক, লেখক, সুধীজন ও হাওরাঞ্চল সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা হাওরাঞ্চলের মানুষের জীবন ও জীবিকা রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।