মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের দুই দিন পর ফেসবুকে যা জানালেন দীপেন দেওয়ান

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:৫৪ পূর্বাহ্ন, ০৪ জুন ২০২৬ | আপডেট: ১:১০ পূর্বাহ্ন, ০৫ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের দুই দিন পর ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন দীপেন দেওয়ান। বুধবার (৩ জুন) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পার্বত্যবাসীকে শান্ত থাকার অনুরোধ জানিয়ে পোস্ট দেন তিনি।

একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তার রাজনৈতিক জীবনের শেষ ঠিকানা।অর্থনীতি সংবাদ

আরও পড়ুন: ‘ভাই, এত ব্যস্ত হইয়েন না’: ছুটির বিষয়ে প্রশ্নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বুধবার (৩ জুন) রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি এই আহ্বান জানান। পদত্যাগকে কেন্দ্র করে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জুড়ে সৃষ্টি হওয়া প্রতিক্রিয়ার বিষয়ে তিনি অবগত রয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন।

এর আগে সোমবার মন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেন দীপেন দেওয়ান। পদত্যাগপত্রে তিনি জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। অসুস্থতার কারণে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে সমস্যার মুখোমুখি হওয়ায় তিনি পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

আরও পড়ুন: আগের দামেই বিদ্যুৎ পাচ্ছেন লাইফলাইন গ্রাহকরা

তার পদত্যাগের খবর প্রকাশের পর রাঙামাটিতে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন। তারা তার পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার এবং পুনর্বহালের দাবি জানান। পরদিনও বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ এবং টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়।

ফেসবুক পোস্টে দীপেন দেওয়ান পার্বত্য অঞ্চলের সব মানুষের প্রতি আইনশৃঙ্খলা ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কোনো ধরনের উসকানি, বিভ্রান্তি বা সংঘাতের পথে না গিয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও সৌহার্দ্যের পরিবেশ বজায় রাখা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম সবার এবং এই অঞ্চলের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন রক্ষার দায়িত্বও সবার। পাহাড়ি-বাঙালি নির্বিশেষে সকল জনগণের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক আস্থা আরও সুদৃঢ় হোক এটাই তার প্রত্যাশা।

নিজের রাজনৈতিক অবস্থান প্রসঙ্গে দীপেন দেওয়ান বলেন, তিনি রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকে বিএনপির একজন নিবেদিত কর্মী হিসেবে কাজ করে আসছেন এবং ভবিষ্যতেও দলের আদর্শ ও জনগণের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করতে চান। ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক যেকোনো পরিস্থিতিতেই দলের প্রতি তার আনুগত্য অটুট থাকবে বলেও উল্লেখ করেন।

পোস্টে তিনি তার বাবা সুবিমল দেওয়ানের কথা স্মরণ করেন। তিনি জানান, তার বাবা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উপজাতিবিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন এবং তার আদর্শ ও দেশপ্রেমই রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম প্রেরণা।

একই সঙ্গে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপিতে যোগদানের বিষয়টি উল্লেখ করেন এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেন।

৬৩ বছর বয়সী দীপেন দেওয়ান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাঙামাটি আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন। নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হওয়ার পর প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হয়ে মন্ত্রিসভায় স্থান পান তিনি।

ফেসবুক পোস্টের শেষাংশে তিনি আবারও বলেন, দেশের উন্নয়ন, শান্তি ও সম্প্রীতির স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তার ভাষায়, মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু বিভেদ নয়; প্রতিযোগিতা থাকতে পারে, কিন্তু সংঘাত নয়। বিএনপিই আমার শেষ ঠিকানা।