বাজেট ২০২৬-২৭: স্নাতক পর্যন্ত মেয়েদের বিনামূল্যে শিক্ষার পরিকল্পনা
২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতে বড় ধরনের সংস্কার এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে নারী শিক্ষাকে আরও উৎসাহিত করতে মেয়েদের জন্য স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের প্রস্তাব রাখা হতে পারে।
এছাড়া দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল ইউনিফর্ম, জুতা ও ব্যাগ সরবরাহ, প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার বিভিন্ন উদ্যোগও বাজেটে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আরও পড়ুন: দোকানপাট ও শপিংমল খোলা রাখার সময় বাড়ালো সরকার
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এটি বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেট এবং এর সম্ভাব্য আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা।
অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সারা দেশে ধাপে ধাপে মিড-ডে মিল কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে ছাত্রী ও শিক্ষিকাদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ও হাইজিন ব্যবস্থা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: বাজেট ২০২৬-২৭: একাধিক খাতে ১০০ শতাংশ কর অব্যাহতির প্রস্তাব
ডিজিটাল শিক্ষা সম্প্রসারণে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সুবিধা এবং ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, এসব উদ্যোগ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার সঙ্গে আরও সম্পৃক্ত করবে।
শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশে স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে বিতর্ক, বিজ্ঞান মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সাহিত্যচর্চা এবং অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রমকে আরও উৎসাহিত করার প্রস্তাবও থাকছে।
এছাড়া শিক্ষা খাতে সরকারি ব্যয় ধাপে ধাপে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। দক্ষতাভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের জন্য একাধিক নতুন কর্মসূচি গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, শিক্ষাক্রমে নৈতিকতা, সামাজিক দায়িত্ববোধ, নেতৃত্বগুণ এবং মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, ক্রীড়া এবং সাংস্কৃতিক কার্যক্রমকে শিক্ষার মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ ধারণাকে গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য চাপমুক্ত ও আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। একই সঙ্গে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ধাপে ধাপে কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে।
ভাষা শিক্ষার ক্ষেত্রেও নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি জাপানি, কোরিয়ান, ম্যান্ডারিন, আরবি, ফরাসি এবং জার্মান ভাষা শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া এসব দেশে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাবও বিবেচনা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রস্তাবিত উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে নতুন মাত্রা পাবে এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতামূলক জনশক্তি তৈরিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। তবে এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত অর্থায়ন ও অবকাঠামোগত সক্ষমতা নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।





