আওয়ামী লীগ ও গণতন্ত্র কখনো একসঙ্গে যায়নি: মির্জা ফখরুল

Sadek Ali
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৩:৫৮ অপরাহ্ন, ১৬ জুন ২০২৬ | আপডেট: ৫:৪৭ অপরাহ্ন, ১৬ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে আওয়ামী লীগ ও গণতন্ত্র কখনো একই ধারায় চলেনি। তিনি দাবি করেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে সাংবাদিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাব-এ ‘সংবাদপত্রের কালো দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন।

আরও পড়ুন: একনেকে ৭ হাজার কোটি টাকার ৫ প্রকল্প অনুমোদন

মির্জা ফখরুল বলেন, দেশে যখনই স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদী প্রবণতার উত্থান ঘটেছে, তখন গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাগুলো জনগণের সামনে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষার সংগ্রামে সংবাদকর্মীরা সবসময় অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন।

নিজেকে একজন উদার গণতন্ত্রবাদী হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ধর্ম, বর্ণ বা অন্য কোনো পরিচয়ের ভিত্তিতে বিভাজনের রাজনীতিতে তিনি বিশ্বাস করেন না। দেশের সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করার পক্ষে মত দিয়ে তিনি বিএনপিকে একটি গণতান্ত্রিক ও উদারপন্থি রাজনৈতিক দল হিসেবে উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন: স্কুল পর্যায় থেকে সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চা বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

বিএনপি মহাসচিব বলেন, রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন কঠিন সময়ে সাংবাদিকরা শুধু সংবাদ পরিবেশনই করেননি, বরং অনেক ক্ষেত্রে আন্দোলন-সংগ্রামের কর্মীদের পাশে থেকেছেন। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে তারা সত্য তুলে ধরতে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন।

তিনি বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর দেশে এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা আরও সুসংহত করার সুযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বর্তমান সরকারের ইতিবাচক অবস্থানের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

সাংবাদিকদের কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, এখনও অনেক সাংবাদিক বেকার অবস্থায় রয়েছেন। তাদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে সরকার, গণমাধ্যম মালিক ও সংশ্লিষ্টদের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি বন্ধ হয়ে যাওয়া সংবাদমাধ্যমগুলোর ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং নতুন সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির আহ্বান জানান তিনি।

দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির বিভিন্ন অপচেষ্টা সম্পর্কে সতর্ক করে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচারের মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা চলছে। এ ধরনের অপতৎপরতা মোকাবিলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কাদের গণি চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শহিদুল ইসলাম।