আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ হবে আদালতে: জাহেদ উর রহমান

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৫:১৮ অপরাহ্ন, ২৩ জুন ২০২৬ | আপডেট: ১১:১৮ অপরাহ্ন, ২৩ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ দল হিসেবে পুরোপুরি নিষিদ্ধ হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত আদালতই নেবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

আরও পড়ুন: তত্ত্বাবধায়ক সরকারসহ আরও দুই অনুচ্ছেদে গণভোট চায় বিএনপি

উপদেষ্টা জানান, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হবে কি না, তা নির্ধারিত হবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-এর বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। দলটি মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ছিল কি না, সে বিষয়ে আদালতের রায়ের পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে।

তিনি বলেন, বিচারাধীন থাকা অবস্থায় সন্ত্রাস দমন আইন, ২০০৯-এর আওতায় আওয়ামী লীগের সব ধরনের সাংগঠনিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকবে। এ অবস্থায় দলটি কোনো কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামার চেষ্টা করলে তা আইন লঙ্ঘনের শামিল হবে এবং সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

আরও পড়ুন: দখলবাজি ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা ক্ষমতাসীন দলের জন্য অশনিসংকেত: টিআইবি

বর্তমান পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের বড় ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি পরিচালনার সক্ষমতা রয়েছে বলে তিনি মনে করেন না। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দলটির সেই ধরনের নৈতিক অবস্থান বা সাহস নেই বলে তার ব্যক্তিগত ধারণা।

ডা. জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, আওয়ামী লীগকে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই একটি রাজনৈতিক দলের চেয়ে ‘মাফিয়া সংগঠন’ হিসেবে বিবেচনা করে আসছেন। একই ধরনের মন্তব্য সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও করেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

একটি রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা গণতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলগুলোরও কিছু মৌলিক নীতি ও মানদণ্ড মেনে চলতে হয়। কোনো দল জনসমর্থন পেলেই তাকে সীমাহীনভাবে কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দেওয়া যায় না।

তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক দেশেও কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম বা বৈধতা নিয়ে বিচারিক ও সাংবিধানিক আলোচনা হয়ে থাকে। তাই আওয়ামী লীগের বিষয়ে আদালত যে সিদ্ধান্ত দেবে, সেটিই চূড়ান্ত হিসেবে গ্রহণ করা হবে।

উপদেষ্টা বলেন, বিষয়টি সম্পূর্ণ বিচারিক এখতিয়ারের মধ্যে রয়েছে। আদালতের সিদ্ধান্তই এ ক্ষেত্রে কার্যকর হবে এবং সরকার সেই প্রক্রিয়াকে সম্মান করবে।