দন্তচিকিৎসক পিনু হত্যা: জুতার ছাপের সূত্র ধরে পুলিশের হাতে স্বামী
রাজধানীর দক্ষিণখানের ফায়দাবাদ জামতলা এলাকায় নিজ বাসায় দন্তচিকিৎসক সারাহ রোকসানা পিনু হত্যার ঘটনায় তার স্বামী মো. সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার তদন্তে পারিবারিক বিরোধ, দাম্পত্য সম্পর্ক এবং হত্যার পেছনের সম্ভাব্য কারণগুলো গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার সোহেলের বিরুদ্ধে আদালতে রিমান্ড আবেদনও করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার ফায়দাবাদ এলাকায় নিজ বাসা থেকে সারাহ রোকসানা পিনুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বোন সারাহ সুলতানা পলি শুক্রবার অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে দক্ষিণখান থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তবে তদন্তে সন্দেহভাজন হিসেবে নিহতের স্বামী সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আরও পড়ুন: বেনজীরের জামিন বাতিলে দুবাইয়ে ল’ফার্ম নিয়োগ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
নিহতের বোন পলি দাবি করেন, পিনু জীবিত অবস্থায় একাধিকবার ফোনে কান্নাকাটি করে বলেছিলেন, তার স্বামী তাকে হত্যা করতে পারেন। এসব তথ্যও তদন্তে গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে।
শনিবার (১ আগস্ট) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দক্ষিণখান থানার এসআই হাবিবুর রহমান সোহেল রানাকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। তবে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসান শাহাদাৎ তাকে কারাগারে পাঠিয়ে রিমান্ড শুনানির জন্য সোমবার দিন ধার্য করেন।
আরও পড়ুন: বেনজীরকে ফিরিয়ে এনে বিচার কাজ সম্পন্ন করা হবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
প্রাথমিকভাবে পুলিশ জানিয়েছিল, দুর্বৃত্তরা জানালার গ্রিল কেটে বাসায় প্রবেশ করে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে। তবে তদন্তে সিআইডি জানালার ভেতরের বারান্দায় একটি জুতার ছাপ শনাক্ত করে। পরে বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া একজোড়া জুতার সঙ্গে সেই ছাপের মিল পাওয়া যায়, যা সোহেল রানা নিজের বলে স্বীকার করেছেন।
তদন্ত কর্মকর্তা এসআই হাবিবুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থলের যে জানালার গ্রিল কাটা হয়েছিল, সেটি একটি খোলা ছাদের সঙ্গে সংযুক্ত। ঘটনার সময় দিনের আলো থাকলেও আশপাশের কেউ গ্রিল কাটার শব্দ শোনেননি কিংবা কাউকে সেখানে দেখতে পাননি। এছাড়া জানালার বাইরের ছাদে কোনো জুতা বা পায়ের ছাপও পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও জানান, জিজ্ঞাসাবাদে সোহেল রানা তার স্ত্রীর প্রতি চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে এ বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে আশা করছে পুলিশ।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, চার বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে পিনু ছিলেন সবার ছোট। তার ১৬ বছর বয়সী ছেলে সালেহীন ওহি মাদ্রাসায় অষ্টম শ্রেণিতে এবং ১০ বছর বয়সী মেয়ে হাসিন ওয়ামী তৃতীয় শ্রেণিতে পড়াশোনা করে।
নিহতের বড় বোন পান্না অভিযোগ করেন, সোহেল রানা একটি ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানে সহকারী ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত। তিনি পরকীয়ায় জড়িত ছিলেন এবং বিভিন্ন কারণে দাম্পত্য জীবনে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। তিনি এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ঘটনার দিন সকালে সোহেল রানা মেয়েকে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে অফিসে যান। পরে স্কুল শেষে মেয়ে বাসায় ফিরে মায়ের কক্ষে গিয়ে বিছানায় নিথর অবস্থায় তাকে দেখতে পায়। মুখের ওপর রাখা বালিশ সরিয়ে কোনো সাড়া না পেয়ে স্কুলে ফিরে গিয়ে সেখান থেকে বাবাকে খবর দেয়।





