ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণে দ্রুত সেবা, মাঠে ২৮ চেক হস্তান্তর

Shahrier Islam Pallab
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
প্রকাশিত: ৭:০৮ অপরাহ্ন, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১:০৮ পূর্বাহ্ন, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ পেতে যাতে মানুষের ভোগান্তি না হয়, সে লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে সরাসরি চেক তুলে দিয়েছে জেলা প্রশাসন, ঢাকা। কেরানীগঞ্জ উপজেলার আটিবাজারে জরাজীর্ণ ও অপ্রশস্ত বেইলি সেতুর স্থলে নতুন আরসিসি সেতু নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত ২৮ জন ব্যবসায়ীকে ক্ষতিপূরণের চেক দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) আটিবাজারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব চেক হস্তান্তর করা হয়। জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা সরাসরি মাঠে উপস্থিত থেকে চেক দেওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি দেখা যায়।

আরও পড়ুন: মহাখালীর কড়াইল বস্তিতে ফায়ার সার্ভিসের মহড়া

কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উমর ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমানউল্লাহ আমান। জেলা প্রশাসক, ঢাকার পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) মোহাম্মদ শামীম হুসাইন। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার ইরফান ইবনে আমান।

অনুষ্ঠানে আমানউল্লাহ আমান ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের চেক দ্রুত বিতরণ এবং জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মাঠে এসে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে চেক তুলে দেওয়ার উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ক্ষতিপূরণের অর্থ পেতে মানুষকে যেন অযথা অফিসে ঘুরতে না হয়, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। জেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগে মানুষের ভোগান্তি কমবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুন: পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে দ্বিতীয় সভা ৯ নভেম্বর

আমানউল্লাহ আমান বলেন, তাঁর মেয়াদে কেরানীগঞ্জে ২৭০টি ব্রিজ নির্মিত হয়েছে। ১৯৯১ সালে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার আগে আটিবাজারের কাঠের পুলকে সাধারণ ব্রিজে রূপান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। নির্বাচিত হওয়ার পর তিন মাসের মধ্যে সেই কাজ শুরু হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, এবার নির্বাচনের আগে আটিবাজারের ব্রিজের এপ্রোচ রোড প্রশস্ত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। নির্বাচনের ছয় মাসের মধ্যেই সেই কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ক্ষতিপূরণ বিতরণ এ প্রকল্প বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) মোহাম্মদ শামীম হুসাইন বলেন, জেলা প্রশাসক মিজ ফরিদা খানমের নেতৃত্বে ভূমি অধিগ্রহণের কারণে ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত ও স্বচ্ছতার সঙ্গে সহযোগিতা করা হচ্ছে। প্রকল্পের পরবর্তী পর্যায়েও জমি ও অবকাঠামোর ক্ষতিপূরণের চেক নিয়ম অনুযায়ী দ্রুত বিতরণ করা হবে।

চেক গ্রহণকারী ব্যবসায়ী শাহিন মিয়া বলেন, ‘ক্ষতিপূরণের টাকা পেতে আমাদের বারবার অফিসে যেতে হয়নি। জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা মাঠে এসে সরাসরি চেক দিয়েছেন। দ্রুত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় টাকা পাওয়ায় আমরা স্বস্তি পেয়েছি।

অনুষ্ঠানে সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী, জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি), সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।