চার দিনের রিমান্ডে সাবেক সেনা কর্মকর্তা হাফিজ

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৫:৫০ অপরাহ্ন, ০১ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৫:৫০ অপরাহ্ন, ০১ নভেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক অপপ্রচার, নিষিদ্ধ সংগঠনের পক্ষে অর্থায়ন এবং রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে করা মামলায় অবসরপ্রাপ্ত মেজর ড. খন্দকার আব্দুল হাফিজের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

রোববার (১ নভেম্বর) বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাকিবুল হাসান এ আদেশ দেন।

আরও পড়ুন: তাহসিফ হত্যা মামলা: নতুন করে তরুণী গ্রেপ্তার, বন্ধু দীপ ৪ দিনের রিমান্ডে

এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক শেখ বশির আহমেদ আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানির সময় খন্দকার আব্দুল হাফিজকে আদালতে হাজির করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী অ্যাডভোকেট হারুন অর রশীদ রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, খন্দকার আব্দুল হাফিজ তাঁর সহযোগী অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কাজী গুলশান আরা, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল দেবাশীষ (৪৭) এবং অন্যদের সহায়তায় সরকারবিরোধী হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহ করতেন। একই সঙ্গে সহিংসতায় উসকানিমূলক ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হতো বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: জামিন পেলেন সাবেক এমপি আখতারুজ্জামান

আবেদনে আরও দাবি করা হয়, অবসরপ্রাপ্ত কয়েকজন সেনা কর্মকর্তার সমন্বয়ে গঠিত ‘ইউনিটি কেয়ার’ ও ‘পাবলিক পার্লামেন্ট’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের পলাতক শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা হতো। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে নিষিদ্ধ সংগঠনকে পুনর্বাসন এবং রাষ্ট্রবিরোধী সহিংস কর্মকাণ্ডের ষড়যন্ত্র করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ তদন্ত কর্মকর্তার।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, ‘Khondokar A Hafiz’ নামের ফেসবুক আইডিসহ বিভিন্ন পেজ থেকে সহিংসতায় উসকানিমূলক কনটেন্ট প্রকাশ করে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ হত্যার পক্ষে অপপ্রচার, বর্তমান সরকার ও দেশের বিরুদ্ধে কুৎসামূলক প্রচারণা এবং দেশি-বিদেশি গুপ্তচরদের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগও আনা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ তদন্তাধীন। আদালতে রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া মানেই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া নয়।

তদন্তের স্বার্থে খন্দকার আব্দুল হাফিজকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাঁর সহযোগীদের নাম-ঠিকানা ও অবস্থান শনাক্ত, রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দেশি-বিদেশি ব্যক্তিদের পরিচয় উদ্‌ঘাটন এবং অপরাধে ব্যবহৃত ডিজিটাল আলামত উদ্ধার করতে চায় পুলিশ।

এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচালিত অন্য কোনো গোপন পেজ বা ওয়েবসাইট রয়েছে কি না, জব্দ করা আলামতের সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতা এবং মামলার মূল রহস্য উদ্‌ঘাটনের জন্য তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে শনিবার (৩১ অক্টোবর) দিবাগত রাতে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে খন্দকার আব্দুল হাফিজকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।

গত ১২ অক্টোবর রাজধানীর পল্লবী থানায় মামলাটি করেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মো. আলী আকবর।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা ‘ইউনিটি কেয়ার’ ও ‘পাবলিক পার্লামেন্ট’ প্ল্যাটফর্ম এবং বিভিন্ন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদসহ পলাতক শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতেন।

এ ছাড়া নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যে অবৈধ তহবিল সংগ্রহ, ‘কালআজকাল.কম’ ফেসবুক পেজ ও টকশোর মাধ্যমে উসকানিমূলক প্রচারণা, ‘বঙ্গবন্ধু সেনা পরিষদ’ গঠন এবং দেশি-বিদেশি ব্যক্তিদের যোগসাজশে ৫ আগস্টের পর থেকে সরকারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার অভিযোগ করা হয়েছে। মামলাটির তদন্ত চলছে।