রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর ৫ দফা প্রস্তাব

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৩:১১ পূর্বাহ্ন, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৪:১৫ পূর্বাহ্ন, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও স্থায়ী সমাধানে পাঁচ দফা প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের এক পার্শ্ব-অনুষ্ঠানে তিনি এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন।

‘দ্য রোহিঙ্গা ক্রাইসিস: এ রিনিউড কল ফর এ ডিউরেবল সল্যুশন ফ্রম প্রোট্র্যাক্টেড ডিসপ্লেসমেন্ট, উইথ জাস্টিস অ্যান্ড অ্যাকাউন্ট্যাবিলিটি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ নয় বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে মানবিক দায়িত্ব পালন করছে। তবে অনির্দিষ্টকাল এককভাবে এই দায়িত্ব বহন করা বাংলাদেশের পক্ষে সম্ভব নয়।

আরও পড়ুন: জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সৌরবিদ্যুৎসহ বিকল্প ব্যবস্থায় এগিয়ে আসার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ দফা প্রস্তাবের প্রথমটি হলো—রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক অংশীজনদের নিয়ে একটি সুস্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য রোডম্যাপ তৈরি করা। একই সঙ্গে মিয়ানমারের ভেতরে প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

দ্বিতীয় প্রস্তাবে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাসহ বেসামরিক জনগণের ওপর সহিংসতা বন্ধ এবং রোহিঙ্গাদের নিজভূমিতে মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। এতে প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে রোহিঙ্গাদের আস্থা ফিরবে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

আরও পড়ুন: হাম-ডেঙ্গু ও নিউমোনিয়া আক্রান্তে বিপর্যস্ত স্বাস্থ্যসেবা

তৃতীয় প্রস্তাবে রোহিঙ্গাদের জন্য পর্যাপ্ত ও পূর্বানুমেয় মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কক্সবাজারে আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়।

চতুর্থ প্রস্তাবে ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে), আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক বিচারিক ও তদন্ত ব্যবস্থাকে অব্যাহত সহযোগিতা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। গুরুতর অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনার কথাও বলেন।

পঞ্চম প্রস্তাবে মাদকপাচার, মানবপাচার, ডিজিটাল প্রতারণা, অবৈধ অস্ত্রসহ বিভিন্ন আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতি থেকে সৃষ্ট নিরাপত্তাঝুঁকি এখন পুরো অঞ্চলের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে এবং এর সমাধানও মিয়ানমারেই নিহিত। তবে রাখাইন রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য এখনো অনুকূল নয়। সেখানে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অধিকার লঙ্ঘন ও নিরাপত্তাহীনতার খবর পাওয়া যাচ্ছে।

মানবিক সহায়তা কমে যাওয়ার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, মানবিক সহায়তার উদারতা রাজনৈতিক নিষ্ক্রিয়তার অজুহাত হতে পারে না। একই সঙ্গে অনির্দিষ্টকাল বাংলাদেশের ওপর এ দায়িত্ব চাপিয়ে রাখা সম্ভব নয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ চায় না রোহিঙ্গারা চিরকাল বাস্তুচ্যুত অবস্থায় থাকুক। তারা যেন নিরাপদে, স্বেচ্ছায়, মর্যাদার সঙ্গে এবং অধিকার সুরক্ষিত রেখে মিয়ানমারে নিজেদের ঘরে ফিরতে পারেন—এটাই বাংলাদেশের লক্ষ্য। প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরি হলে প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।