প্রতিটি শিশুর জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:১০ অপরাহ্ন, ০৬ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ৬:৫৯ অপরাহ্ন, ০৬ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

একটি সমৃদ্ধ, জ্ঞানভিত্তিক ও মানবিক জাতি গঠনে প্রতিটি শিশুর জন্য নিরাপদ, বৈষম্যহীন এবং স্নেহ-মমতায় পরিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। nশিশু অধিকার দিবস ২০২৬ এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমি প্রতিষ্ঠার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে সোমবার (৫ অক্টোবর) দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ আহ্বান জানান। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দিবসটি পালিত হচ্ছে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, আজকের শিশুরাই আগামী দিনের বাংলাদেশ। তাদের সুস্থ বিকাশ, আনন্দময় শৈশব, মানসম্মত শিক্ষা এবং মেধা ও সৃজনশীলতার বিকাশের ওপর দেশের সমৃদ্ধ, জ্ঞানভিত্তিক ও মানবিক ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। তাই প্রতিটি শিশুর জন্য নিরাপদ ও বৈষম্যহীন পরিবেশ নিশ্চিত করা সবার সম্মিলিত দায়িত্ব।

আরও পড়ুন: প্রথমবারের মতো লটারির মাধ্যমে সাব-রেজিস্ট্রার বদলি

তিনি বলেন, শিশুদের সুরক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা ও সার্বিক বিকাশে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে মানসম্মত শিক্ষা, পুষ্টি ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, ঝরে পড়া শিশু-কিশোরদের কারিগরি ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং শিশুবান্ধব বিচারব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ রয়েছে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের সুবিধাবঞ্চিত, প্রতিবন্ধী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিশুদের কাছেও এসব সেবা আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দিতে সবাইকে আরও সক্রিয় হতে হবে। শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, স্কুল পর্যায়ে বিভিন্ন খেলায় শিশুদের অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: চার দিনের সফরে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

এ ছাড়া দেশের ৬৪ জেলায় ‘স্পোর্টস ভিলেজ’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা, ‘স্পোর্টস কার্ড’ ও ক্রীড়া ভাতা চালু এবং তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভা অন্বেষণে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচি পুনরায় চালুর কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও খেলাধুলার সমন্বিত চর্চার মাধ্যমে শিশুরা জ্ঞান, মানবিক মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও দেশপ্রেমে সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে। তাদের মেধা, মনন ও প্রতিভা বিকাশের যথাযথ সুযোগ তৈরি করা গেলে তারাই ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে আরও সমৃদ্ধ ও মর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলবে।

এবারের আয়োজন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিশু অধিকার দিবসের সঙ্গে এবার যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ শিশু একাডেমির প্রতিষ্ঠার সুবর্ণজয়ন্তী।

রাষ্ট্রপতি বলেন, পাঁচ দশক ধরে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি সংগীত, নৃত্য, চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি ও সাহিত্যসহ বিভিন্ন সৃজনশীল কার্যক্রমের মাধ্যমে শিশুদের প্রতিভা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।  আগামী দিনে দেশের প্রতিটি প্রান্তের প্রতিটি শিশুর কাছে শিক্ষা, সৃজনশীলতা ও বিকাশের সুযোগ আরও বিস্তৃতভাবে পৌঁছে যাবে।

বাণীর শেষাংশে শিশু অধিকার দিবস ২০২৬ এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমির সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে নেওয়া সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন রাষ্ট্রপতি। একই সঙ্গে বিশ্বের প্রতিটি শিশুর জীবন নিরাপদ, আনন্দময় ও আলোকিত করার অঙ্গীকারের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।