যে কারণে নয়টি আসনে ধানের শীষ মার্কা থাকছে না
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক সমঝোতা ও আইনি জটিলতা—এই দুই কারণে অন্তত নয়টি আসনের ব্যালটে দেখা যাবে না বিএনপির দলীয় প্রতীক ধানের শীষ। দলীয় সূত্র জানায়, যুগপৎ আন্দোলনে দীর্ঘদিনের মিত্র দলগুলোর সঙ্গে আসন সমঝোতার অংশ হিসেবে বিএনপি আটটি আসনে প্রার্থী দেয়নি। ফলে এসব আসনে বিএনপির কোনো প্রার্থী না থাকায় ব্যালটে ধানের শীষ প্রতীকও থাকছে না। এ ছাড়া আরও একটি আসনে আদালতের চূড়ান্ত রায়ে বিএনপির প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় ওই আসনেও ধানের শীষ অনুপস্থিত থাকবে।
হিসাব অনুযায়ী, ৩০০ আসনের সংসদে বিএনপি পাঁচটি মিত্র দলকে মোট আটটি আসন ছেড়ে দিয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চারটি আসন পেয়েছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ। বাকি চারটি আসন ভাগ করে নিয়েছে গণসংহতি আন্দোলন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি—বিজেপি এবং গণঅধিকার পরিষদ। এসব আসনে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর প্রার্থীরা তাদের নিজস্ব প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
আরও পড়ুন: বৈশাখী শোভাযাত্রার আয়োজন করলো জামায়াতে ইসলামী
জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ খেজুরগাছ প্রতীক নিয়ে চারটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। সিলেট-৫ আসনে দলের সভাপতি মাওলানা মোহাম্মদ উবায়দুল্লাহ ফারুক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে সহ-সভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, নীলফামারী-১ আসনে মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী এবং নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে কেন্দ্রীয় নেতা মুফতি মনির হোসেন কাসেমী প্রার্থী হয়েছেন।
এ ছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে গণসংহতি আন্দোলনের নেতা জোনায়েদ সাকি মাথাল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ঢাকা-১২ আসনে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক রয়েছেন কোদাল প্রতীকে।
আরও পড়ুন: ৫০ গাড়ির শোডাউন, ছাত্রদল নেতা মাসুদ রানাকে অব্যাহতি
পটুয়াখালী-৩ আসনে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর ট্রাক প্রতীক নিয়ে এবং ভোলা-১ আসনে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি—বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ গরুর গাড়ি প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
এই আট আসনের বাইরে কুমিল্লা-৪ আসনে ভিন্ন কারণে ব্যালট থেকে বাদ পড়েছে ধানের শীষ। ঋণ খেলাপির অভিযোগে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র আদালত চূড়ান্তভাবে বাতিল করায় ওই আসনে বিএনপির কোনো প্রার্থী থাকছে না।
সব মিলিয়ে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নয়টি আসনের ব্যালটে অনুপস্থিত থাকছে বিএনপির ঐতিহ্যবাহী প্রতীক ধানের শীষ। যদিও এসব আসনের কয়েকটিতে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, তবে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করায় ইতোমধ্যে তাদের বহিষ্কার করেছে বিএনপি।





