কয়দিন পর হয়তো বলবে, গোলাম আজম ছিলেন স্বাধীনতার ঘোষক : রিজভী

Sadek Ali
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২:৪৫ অপরাহ্ন, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ২:৪৫ অপরাহ্ন, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

জামায়াতে ইসলামীর আমিরের উদ্দেশ্যে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, কয়দিন পর হয়তো বলবেন, গোলাম আজম ছিলেন স্বাধীনতার ঘোষক। এ কথাও আপনারা বলতে পারেন। কারণ মিথ্যা বলতে আপনারা কখনোই পিছুপা হন না।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় দলটির উদ্যোগে পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে তিনি এ অভিযোগ করেন।

আরও পড়ুন: দোয়া চেয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার আকাঙ্ক্ষা জানালেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

জামায়াতে আমিরের উদ্দেশ্য রিজভী আরও বলেন, পাকিস্তানি বাহিনী যখন আমাদের মা বোনদের ওপর অত্যাচার চালিয়েছে, তখন সেই অত্যাচারকে আপনারা অত্যাচার বলেননি। সেই নির্যাতনকে আপনারা নির্যাতন হিসেবেও স্বীকার করেননি। বরং তাদেরকে আপনারা সমর্থন করেছেন, পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছেন। আজ কোন মুখে, কোন দূরভিসন্ধি নিয়ে আপনারা স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে কথা বলছেন? কয়দিন পর হয়তো বলবেন, গোলাম আজম সাহেবই ছিলেন স্বাধীনতার ঘোষক—এ কথাও আপনারা বলতে পারেন। কারণ মিথ্যা বলতে আপনারা কখনোই পিছুপা হন না।

তিনি বলেন,জামায়াতের আমির নারীদের সম্পর্কে যে কুরুচিপূর্ণ ও অবমাননামূলক মন্তব্য করেছেন, তাতে সারাদেশের নারী সমাজ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। সেই ক্ষোভ ঢাকতেই তিনি এখন স্বাধীনতার ঘোষক নিয়ে কথা বলছেন। কিন্তু প্রতিষ্ঠিত সত্যকে বিতর্কিত করে সত্য আড়াল করা যাবে না।

আরও পড়ুন: ‘ভোটে জিতলে শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রি ওয়াইফাই সেবা দিবে তারেক রহমান’

তিনি আরো বলেন, আপনারা (জামায়াত) ১৯৮৬ সালে বলেছিল  এরশাদের অধীনে নির্বাচনে যাবেন না। শেখ হাসিনাও বলেছিলেন, যারা যাবে তারা জাতীয় বেইমান। কিন্তু শেখ হাসিনা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নির্বাচনে গেছেন, জামায়াতে ইসলামও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গেছে। জনগণের কাছে ওয়াদা করে পরে আপনারা সেই ওয়াদা খেলাফ করেছেন।

সে সময় বেগম খালেদা জিয়া নির্বাচনে যাননি। তিনি নয় বছর সংগ্রাম করেছেন, নিপীড়ন সহ্য করেছেন, অত্যাচার সহ্য করেছেন। তাঁকে বন্দী করা হয়েছে, গ্রেপ্তার করা হয়েছে, গৃহবন্দী করা হয়েছে তারপরও তিনি তাঁর কথার বরখেলাপ করেননি। সত্যের মুখোশ একসময় খুলে পড়ে। আজ নারীদের বিষয়ে দেওয়া বক্তব্যের মধ্য দিয়েই তাদের আসল চরিত্র প্রকাশ পেতে শুরু করেছে।

রিজভী বলেন, গতকাল চট্টগ্রামে জামায়াতের আমির যাঁকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন, তিনি নিজেও কখনো এমন দাবি করেননি। প্রকৃত স্বাধীনতার ঘোষক ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তিনি তখন একজন মেজর হিসেবে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে গোটা জাতিকে দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন এবং মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তাঁর সঙ্গে যিনি সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন, তিনিও নিজের লেখায় বারবার অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে জিয়াউর রহমানের নাম উল্লেখ করেছেন।

তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, এখন হঠাৎ করে রাজনৈতিক স্বার্থে এসব কথা বললে মানুষ কি তা গ্রহণ করবে? তিনি তো তাঁর সামরিক বা পেশাগত জীবনে কখনো নিজেকে স্বাধীনতার ঘোষক বলেননি। এমনকি জিয়াউর রহমান দল গঠন করার সময়ও তিনি তাঁর সহকারী হিসেবেই ছিলেন। এসব তথ্য তাঁর প্রকাশিত বইয়েও রয়েছে।

শবে বরাতের তাৎপর্য তুলে ধরে রিজভী বলেন, শবে বরাত একটি পবিত্র রজনী। এই রাতে বিশ্বের মুসলমানরা আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল হন। ইসলামের প্রতিটি উৎসবই আল্লাহর করুণা ও নেয়ামত লাভের সঙ্গে সম্পর্কিত হোক তা ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা, শবে বরাত বা শবে কদর। এসব পবিত্র দিন ও রাত মানুষের মধ্যে আত্মশুদ্ধির অনুভূতি সৃষ্টি করে।

তিনি বলেন, আজ দেশে দেশে সংঘাত, রক্তপাত, পাপ ও অনাচার বাড়ছে, কারণ মানুষ আল্লাহর কাছে আত্মনিবেদনের চর্চা করছে না। পবিত্রতা ও শুদ্ধতার চর্চা না থাকলেই সমাজে ভয়াবহ অপরাধ ও নোংরা ঘটনা ছড়িয়ে পড়ে। যখন মানুষ আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করে না, তখনই সমাজে এই অনাচারগুলো বিস্তার লাভ করে।

রিজভী অভিযোগ করেন, কেউ কেউ ইসলামের নামে রাজনীতি ও ব্যবসা করে ফায়দা লুটতে চায়। ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য ধর্মকে ব্যবহার করা হয়। অথচ এদেশের মুসলমানরা ইসলামকে ব্যবসার বস্তু নয়, জীবনাচরণের আদর্শ হিসেবে ধারণ করে। আলেম-ওলামাদের দায়িত্ব হলো ইসলামের প্রকৃত তাৎপর্য ব্যাখ্যা করা, কিন্তু ধর্মের নামে মুনাফেকি করলে সমাজে পাপ-পঙ্কিলতা বাড়বেই।

তিনি বলেন, প্রকৃত মুসলমান কখনো মিথ্যা বলতে পারে না, মুনাফেকি করতে পারে না। আল্লাহ তাআলা কোরআনে বারবার মুনাফেকদের সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। ইসলামের নামে রাজনীতি করতে গিয়ে যদি মিথ্যা ও প্রতারণার আশ্রয় নিতে হয়, তাহলে সেটি ইসলামের সঙ্গেই বিশ্বাসঘাতকতা।

নারীদের মর্যাদা প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, ইসলাম নারীদের সর্বোচ্চ সম্মান দিয়েছে। ইসলামের প্রথম বাণী গ্রহণকারী ছিলেন একজন নারী হযরত বিবি খাদিজা (রা.)। মায়ের কাছ থেকেই সন্তানরা প্রথম নামাজ ও ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ করে। অথচ আজ নারীদের অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে, কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স এ নারীদের নিয়ে বাজে মন্তব্য করে পরে নানা অজুহাত দেওয়া হচ্ছে। এতে সারাদেশে ‘ছিছি’ পড়েছে এবং নারীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন।

তিনি বলেন, এই ক্ষোভ ঢাকতেই স্বাধীনতার ঘোষক ইস্যু সামনে আনা হচ্ছে। কিন্তু এই কৌশল কাজে আসবে না। নারীদের প্রতি অবমাননামূলক বক্তব্যের দায় কোনোভাবেই এড়িয়ে যাওয়া যাবে না।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, নির্বাহী কমিটির সদস্য মোঃ মাইনুল ইসলাম সহ প্রমুখ।