রয়টার্সকে দেয়া সাক্ষাতকারে তারেক রহমান
জনগণ চাইলে শেখ হাসিনার সন্তানরাও রাজনীতিতে ফিরতে পারেন
জনগণের সমর্থন থাকলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সন্তানদের রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, রাজনীতিতে অংশগ্রহণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয় জনগণই।
শুক্রবার ৬ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত ওই সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনার সন্তানরা বিদেশ থেকে দেশে ফিরে রাজনীতিতে যুক্ত হতে পারবেন কি না, এমন প্রশ্নে তারেক রহমান বলেন, যদি জনগণ কাউকে গ্রহণ করে এবং স্বাগত জানায়, তাহলে যে কারোই রাজনীতি করার অধিকার রয়েছে।
আরও পড়ুন: ‘প্রত্যাশিত বাংলাদেশ’ গড়তে ধানের শীষে সমর্থন চাইলেন তারেক রহমান
প্রসঙ্গত, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে। তাঁর সন্তানরাও বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে থাকা একাধিক মামলার বিচার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নির্বাচনের পর সম্ভাব্য রাজনৈতিক জোট নিয়েও কথা বলেন বিএনপি চেয়ারম্যান। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ঐক্য সরকার গঠনের কোনো পরিকল্পনা বিএনপির নেই। তার ভাষায়, আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে সরকার গঠন করলে বিরোধী দল হিসেবে কে থাকবে, সেটাই প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়।
আরও পড়ুন: বিএনপির কাইয়ুমের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে এবার আপিল বিভাগে নাহিদ
তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, আসন্ন নির্বাচনে ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়লাভ নিয়ে বিএনপি আশাবাদী। এবারের নির্বাচনে বিএনপি ২৯২টি আসনে সরাসরি প্রার্থী দিয়েছে। বাকি আসনগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দলটির জোট শরিকরা।
তবে বিএনপি ঠিক কতটি আসনে জয় পেতে পারে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা বলতে রাজি হননি তারেক রহমান। তিনি বলেন, আমরা আত্মবিশ্বাসী যে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারব।
পররাষ্ট্রনীতির প্রশ্নে ভারত ও চীনের প্রসঙ্গও উঠে আসে সাক্ষাৎকারে। নির্বাচনে জয়ী হলে বাংলাদেশ ভারতের প্রভাব থেকে সরে গিয়ে চীনের দিকে ঝুঁকবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের সাড়ে ১৭ কোটির বেশি মানুষের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে সক্ষম এমন অংশীদারই দেশের প্রয়োজন।
তিনি বলেন, সরকারে এলে আমাদের প্রধান লক্ষ্য হবে তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। দেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা আনতে হবে, যাতে নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি হয় এবং মানুষ একটি ভালো জীবনযাপন করতে পারে।
তারেক রহমান আরও বলেন, বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রেখে যে কোনো দেশ বা অংশীদার যদি জনগণ ও দেশের জন্য কার্যকর প্রস্তাব দেয়, তাদের সঙ্গেই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা হবে। কোনো নির্দিষ্ট দেশের সঙ্গে পক্ষপাতমূলক অবস্থান নেওয়ার নীতি বিএনপির নেই।





