অনেক গুপ্ত চাঁদাবাজ জামায়াতে আশ্রয় নিয়েছে: অভিযোগ রুহুল কবির রিজভীর

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২:৩১ অপরাহ্ন, ৩১ মে ২০২৬ | আপডেট: ২:৩১ অপরাহ্ন, ৩১ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

অনেক গুপ্ত চাঁদাবাজ জামায়াতে ইসলামীতে আশ্রয় নিয়েছে’ বলে অভিযোগ করেছেন রুহুল কবির রিজভী।

রোববার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব এই অভিযোগ করেন।

আরও পড়ুন: এমপি গাজী নজরুলসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেফতার যেকোনো সময়

তিনি বলেন, ‘উনারা (জামায়াতে ইসলামী) বড় বড় কথা বলছেন, টেলিফোনে চাঁদাবাজি হয়েছে। তো নিজেদের দিকে একবার তাকান। মিরসরাইয়ে ফেনী নদীর বালু তুলতে গিয়ে ধরা পড়েছিলেন জামায়াতের দুই নেতা। একজনের নাম জাহাঙ্গীর, আরেকজনের নাম রবিউল। ফেনীতে মামলার থেকে অব্যাহতি দেবে বলে এক নেতা, সে আবার রোকন, তাদের কাছ থেকে চাঁদা নিয়েছে—সেটাও পত্রপত্রিকায় এসেছে। আমি তো একটা কি দুইটা উদাহরণ দিলাম। তাহলে তো জামায়াত প্রশ্রয় দেয়।’

‘ধর্মের নামে রাজনীতি করেন, সব নাকি পবিত্র মানুষ। এখানে যেমন তারা গুপ্ত রাজনীতি করেছে ছাত্রলীগের মধ্যে, আওয়ামী লীগের মধ্যে ঢুকে থেকে। অনেক গুপ্ত চাঁদাবাজও জামায়াতের মধ্যে আশ্রয় নিয়ে আছে।’

আরও পড়ুন: সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জামায়াত থেকে বহিষ্কার

রিজভী বলেন, ‘আপনারা (জামায়াতে ইসলামী) একটা আরবি শব্দ ব্যবহার করেন। চাঁদাবাজির ক্ষেত্রে চাঁদাবাজি না বলে আপনারা সেটাকে হাদিয়াবাজি করেন, ইয়ানতবাজি করেন। আরবি শব্দ দিয়ে ওটাকে একটা কাভার দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু সেটা একটা বড় ধরনের হাদিয়াবাজি-ইয়ানতবাজি। আপনারা কম করেন না এবং বহু জায়গায় প্রমাণ আছে যে ধমক দিয়ে, থ্রেট করে করছেন। আমি তো দুই-তিনটার নাম মাত্র বললাম, অসংখ্য আছে।’

‘আমার কথা হলো, রাজনৈতিক দলে তো থাকতে পারে, ঢুকে যেতে পারে; কিন্তু সেই দল তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে কিনা? বিএনপির মধ্যে ৫ আগস্টের পর এই ধরনের কিছু কর্মকাণ্ড হয়েছে। আমাদের দলের চেয়ারম্যান এবং বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শক্ত হাতে শত শত নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করেছেন, দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, শোকজ করা হয়েছে। কেউ বাদ যায়নি। শক্তিশালী নেতা থেকে শুরু করে একেবারে তৃণমূল পর্যন্ত কেউ বাদ যায়নি।’

তিনি বলেন, ‘তারপরেও চাঁদাবাজির অভিযোগ আপনাদের নামে এবং আপনাদের অধিকাংশ রোকন সদস্য, আপনাদের যে সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্যে নানা স্তরের লোক আছেন, তারা অভিযুক্ত হয়েছেন। যখন পেপারে এসেছে, তখন আপনারা বহিষ্কার করেছেন।’

‘আপনারা ফেরেশতা হয়ে গেলেন কী করে? এত একেবারে পরিশুদ্ধ হলেন কী করে? তাহলে যেগুলো ধরা পড়েনি, তারা তো আছেই আপনার দলের মধ্যে। তাহলে বড় বড় কথা বলছেন কেন? এটা কথা বলছেন এই কারণে যে, বোধহয় পাওয়ারে চলে আসবেন। কিন্তু এদেশের মানুষের মাইন্ডসেটটা আপনারা বুঝতে পারেননি। এদেশের মানুষ ধর্মভীরু, কিন্তু জামায়াতকে পছন্দ করে না। এদেশের মানুষ ধর্মভীরু, আবার অতিরিক্ত ধর্মবিরোধী কর্মকাণ্ডও পছন্দ করে না।’

জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস)-এর উদ্যোগে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

রিজভী বলেন, ‘একদিকে যেমন ধর্ম ব্যবসা জামায়াত করেছে, তাদেরকেও পছন্দ করে না। এদেশের মানুষ আবার একেবারে ধর্মের বিরুদ্ধে বিদ্রোহকারী আওয়ামী লীগের যে সমস্ত সহযোগী আছে, তাদের কর্মকাণ্ডও পছন্দ করে না।’

‘আওয়ামী লীগের এক নেতা যেমন বলেছিলেন, মনে নাই আপনাদের? লতিফ সিদ্দিকী যে হজ, মক্কা শরীফ নিয়ে কী মন্তব্য করেছিলেন। হজ আরবরা অর্থনৈতিক কারণে করেছে—মানুষ এগুলো পছন্দ করেনি। আবার ধর্মের নাম বিক্রি করে, ধর্ম ব্যবসা করে, জান্নাতের টিকিট বিক্রি করে মানুষকে ধোঁকা দেওয়া—এটাও এদেশের মানুষ কোনো দিনই পছন্দ করেনি।’

জাসাসের উদ্দেশে রিজভী বলেন, ‘আমি মনে করি যে, জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন হিসেবে এদেশের মৃত্তিকা থেকে উৎসারিত আমাদের যে সংস্কৃতির স্ফুরণ, সেটার অনুশীলন এবং চর্চা করা প্রয়োজন। এর সঙ্গে সংস্কৃতি মানেই শুধু নিজস্ব সেটা নয়। পৃথিবীর ভালো ভালো যে সাংস্কৃতিক অর্জনগুলো রয়েছে, সেগুলোকে গ্রহণ করতেও তো কোনো অসুবিধা নেই।’

‘আমরা বিশ্বদর্শন কি পড়ি না? আমরা কি ইউরোপীয় দর্শন পড়ি না? আমরা কি ইউরোপের ভালো সংগীত বা অন্যান্য দেশের ভালো সংগীত শুনি না? নিশ্চয়ই শুনি। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কোনো পরাশক্তি, কোনো আগ্রাসী শক্তি আমাদের নিজস্ব মৃত্তিকা থেকে উৎসারিত সংস্কৃতিকে বা আমাদের সাংস্কৃতিক শক্তিকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে যে ষড়যন্ত্র করবে, সেটাকে প্রতিহত করার দায়িত্ব হচ্ছে জাতীয়তাবাদী শক্তির এবং জাতীয়তাবাদী শক্তির পক্ষের সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর।’

জাসাসের যুগ্ম আহ্বায়ক আনিসুল ইসলাম সানির সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব জাকির হোসেন রোকনের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির সাংস্কৃতিক সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন উজ্জ্বল, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, তাঁতী দলের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ, জাসাসের লিয়াকত আলী লাকি, ফেরদৌস ফকির, জাবেদ আহমেদ কিসলু, খালেদুজ্জামান জুয়েল, ফরহাদ হোসেন নিয়ন, রাফিজা আলম লাকিসহ অনেকে বক্তব্য রাখেন।