ফেনীতে পরকীয়ায় আসক্ত স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রী-সন্তানদের বাড়ি থেকে উচ্ছেদের অভিযোগ

Sanchoy Biswas
ইলিয়াছ সুমন, ফেনী জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৫:১১ অপরাহ্ন, ১৯ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১১:২১ পূর্বাহ্ন, ২০ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ফেনী শহরের কলাবাগান এলাকায় পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে এক নারী ও তাঁর তিন সন্তানকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী আফিয়া খানম মুন্নী অভিযোগ করেছেন, তাঁর স্বামী বেলাল হোসেন পরকীয়ায় জড়িয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করার পর প্রথম স্ত্রী ও সন্তানদের ভরণপোষণ বন্ধ করে দেন এবং বর্তমানে তাদের বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা করছেন।

শনিবার (১৯ জুলাই) নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন আফিয়া খানম মুন্নী ও তাঁর তিন ছেলে। এ ঘটনায় তাঁরা ফেনীর আদালতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগটি তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফৌজুল আজিম।

আরও পড়ুন: ‘থাকো, টাকা নিয়ে আসি’—বলে দুই শিশুকে ফেলে উধাও মা,

অভিযোগে বলা হয়, ছাগলনাইয়া উপজেলার বাসিন্দা আফিয়া খানম মুন্নী ও তাঁর স্বামী বেলাল হোসেন দীর্ঘদিন প্রবাসে থেকে উপার্জিত অর্থে ২০০১ সালে ফেনী শহরের কলাবাগান এলাকায় প্রায় ৯ শতক জমি ক্রয় করেন। জমিটি স্বামী-স্ত্রীর যৌথ নামে নিবন্ধনের কথা থাকলেও বেলাল হোসেন নিজের নামে নিবন্ধন করেন বলে দাবি করেন মুন্নী।

তিনি আরও দাবি করেন, নিজের সঞ্চয়, স্বর্ণালঙ্কার বিক্রির অর্থ এবং বাবার কাছ থেকে পাওয়া প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যয় করে ওই জমিতে তিনতলা ভবন নির্মাণ করা হয়, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে তিনি তিন সন্তানকে নিয়ে বসবাস করছেন।

আরও পড়ুন: জনগণই দেশের প্রকৃত মালিক, আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সরকার বদ্ধপরিকর: ভূমি ও পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল

মুন্নীর অভিযোগ, পরবর্তীতে তাঁর স্বামী অন্য এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেন এবং প্রথম স্ত্রী ও সন্তানদের খোঁজখবর নেওয়া বন্ধ করে দেন। একই সঙ্গে বসতবাড়ির জমি বিক্রির চেষ্টা করলে তিনি হাইকোর্টের শরণাপন্ন হন। আদালত জমি বিক্রি ও রেজিস্ট্রির ওপর স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন বলে তাঁর দাবি। তবে সেই নির্দেশ উপেক্ষা করে বেলাল হোসেন বিভিন্নভাবে তাদের বাড়ি ছাড়ার জন্য চাপ ও হুমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এ ছাড়া স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তিকে ব্যবহার করে তাঁদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হামলার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন মুন্নী। তিনি বলেন, বর্তমানে তিনি ও তাঁর তিন সন্তান নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বসতবাড়িটি হারালে তাঁদের মাথা গোঁজার আর কোনো জায়গা থাকবে না।

ভুক্তভোগী ছেলে সোহরাব হোসেন বলেন, “আমাদের বাবা দীর্ঘদিন ধরে আমাদের কোনো খোঁজখবর নেন না। উল্টো পারিবারিক সম্পত্তি থেকেও আমাদের বঞ্চিত করার চেষ্টা করছেন।”

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বেলাল হোসেন। তিনি বলেন, “মুন্নীর সঙ্গে বর্তমানে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। বাড়িটি আমার নামে ছিল, তাই আমি সেটি বিক্রি করেছি।”

এ বিষয়ে ফেনী মডেল থানার ওসি ফৌজুল আজিম বলেন, অভিযোগটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।