নির্বাচন কে করবে, না করবে—সেটি আদালত ও ইসির বিষয়: রিজভী
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামী লীগের নেতাদের অংশগ্রহণ ঠেকাতে জামায়াতে ইসলামীর প্রস্তাবের প্রেক্ষাপটে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, কে নির্বাচনে অংশ নেবে বা নেবে না, সেটি কোনো রাজনৈতিক দলের সিদ্ধান্তের বিষয় নয়; এটি সম্পূর্ণভাবে আদালত ও নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার। প্রচলিত আইন অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনে বিএনপির ২০২৫ সালের আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
আরও পড়ুন: গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ছাড়া এ সংসদ চলতে পারে না: মামুনুল হক
সম্প্রতি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ বন্ধ করতে নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রস্তাব দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। এ বিষয়ে বিএনপির অবস্থান জানতে চাইলে রিজভী বলেন, এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। ফলে কে নির্বাচনে অংশ নেবেন, তা রাজনৈতিক দল নির্ধারণ করবে না।
তিনি বলেন, "নির্বাচন কে করবে, না করবে—এটা আদালতের বিষয়, এটা নির্বাচন কমিশনের বিষয়। কী আইন আছে, সেই আইন অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে। অন্য রাজনৈতিক দল কী বলল, না বলল, সেটা বিষয় নয়।"
আরও পড়ুন: ভালুকা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুকে শোকজ
রিজভী আরও বলেন, প্রচলিত আইন এবং বর্তমানে কার্যকর আইন অনুযায়ী কারা নির্বাচনে অংশগ্রহণের যোগ্য, তা নির্ধারণের পূর্ণ দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। বিএনপি এ বিষয়ে কমিশনের ওপরই আস্থা রাখছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপির পক্ষ থেকে সবার জন্য প্রার্থিতা উন্মুক্ত থাকবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে এখনো দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সিদ্ধান্ত হলে তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
এর আগে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের কাছে দলের ২০২৫ সালের আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেয়। প্রতিনিধিদলে ছিলেন দলের কোষাধ্যক্ষ এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং সহদপ্তর সম্পাদক মনির হোসেন।
পরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে রাশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান, ২০২৫ সালে বিএনপির মোট আয় হয়েছে ২২ কোটি ১৯ লাখ ৫৫ হাজার ১৮২ টাকা এবং ব্যয় হয়েছে ১৫ কোটি ২৬ লাখ ১০ হাজার ৮৫৭ টাকা। ফলে বছর শেষে দলের উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ কোটি ৯৩ লাখ টাকা।
তিনি জানান, বর্তমানে দলের ব্যাংক হিসাবে গচ্ছিত রয়েছে ২৮ কোটি ৪ লাখ ৭১ হাজার ৬৮০ টাকা এবং হাতে নগদ রয়েছে ২ লাখ ৭৯ হাজার ৭০০ টাকা। সব মিলিয়ে দলের মোট তহবিল প্রায় ২৮ কোটি ৭ লাখ টাকা।
বিএনপির কোষাধ্যক্ষ বলেন, নির্বাহী কমিটির সদস্যদের চাঁদা, বইপুস্তক ও প্রাথমিক সদস্য ফরম বিক্রি, মনোনয়ন ফরম বিক্রি, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অনুদান এবং ব্যাংক আমানতের সুদ থেকেই দলের এই আয় এসেছে।





