পরীক্ষার কারণে বদলাতে পারে সূচি, কমতে পারে ধাপ: ইসি সানাউল্লাহ
ইউপি ভোটের তারিখ চূড়ান্ত করতে পারেনি ইসি
আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের ভোটের তারিখ চূড়ান্ত করতে পারেনি নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বিভিন্ন পরীক্ষা ও সংশ্লিষ্ট প্রস্তুতির বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সাত ধাপে ইউপি নির্বাচনের প্রাথমিক সময়সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে। এমনকি ভোটের ধাপও কমিয়ে আনার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। তবে স্থানীয় সরকারের এ নির্বাচন আগামী ৬ জুনের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে কমিশনের।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ উপনির্বাচন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপলক্ষে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানান নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
আরও পড়ুন: খালেদা জিয়ার মৃত্যুবার্ষিকী ও বৃত্তি পরীক্ষার দিনে ইউপি ভোট, তারিখ বদলের ভাবনা
তিনি বলেন, “স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ৬ জুনের আগে শেষ করতে হবে। পরীক্ষা যাতে ব্যাহত না হয়, সেটি লক্ষ রাখা হবে। যত দ্রুত সম্ভব ভোটের চূড়ান্ত তারিখ জানানো হবে।”
ইউপি নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে কমিশনার সানাউল্লাহ বলেন, নভেম্বর ও ডিসেম্বরে বিভিন্ন পরীক্ষা রয়েছে। জানুয়ারিতে কিছুটা সময় পাওয়া যেতে পারে, তবে তখন পবিত্র রমজান রয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে কমিশনকে ভোটের সময়সূচি পুনর্বিবেচনা করতে হবে।
আরও পড়ুন: ইউপি ভোটের ৭ ধাপের সময়সূচি নিয়ে ধোঁয়াশা
তিনি বলেন, “নভেম্বর ও ডিসেম্বরে পরীক্ষা আছে। জানুয়ারিতে ফাঁকা পাওয়া যাবে। তবে রোজা আছে। কয়েক দফা বসব। কমিশন সভায় চূড়ান্ত করা হবে।”
এর আগে ইসি অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে সাত ধাপে ইউপি নির্বাচনের একটি প্রাথমিক সময়সূচি নির্ধারণ করে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম ধাপের ভোট ১২ নভেম্বর, দ্বিতীয় ধাপ ১৩ ডিসেম্বর, তৃতীয় ধাপ ৩০ ডিসেম্বর, চতুর্থ ধাপ ১৭ জানুয়ারি, পঞ্চম ধাপ ৪ ফেব্রুয়ারি, ষষ্ঠ ধাপ ২২ এপ্রিল এবং সপ্তম ও শেষ ধাপ ২৭ মে অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে শুরু থেকেই কমিশন জানিয়েছিল, এসব তারিখ চূড়ান্ত নয়।
প্রাথমিক ওই সূচিতে ডিসেম্বরের কয়েকটি তারিখ নিয়ে পরীক্ষা আয়োজনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। বিশেষ করে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা ৮, ১০, ১৩ ও ১৫ ডিসেম্বর হওয়ার কথা রয়েছে। ইউপি নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র হিসেবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যবহার এবং শিক্ষক-কর্মকর্তাদের ভোটগ্রহণের দায়িত্বে থাকার কারণে পরীক্ষার সঙ্গে ভোটের সময়সূচির সমন্বয় জরুরি হয়ে পড়ে।
এ ছাড়া ৩০ ডিসেম্বরের সম্ভাব্য তারিখ নিয়েও আলাদা বাস্তবতা সামনে এসেছে। ফলে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রস্তুতি, পরীক্ষা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, প্রশাসনিক সক্ষমতা এবং অন্যান্য জাতীয় কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
এর আগে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছিলেন, সাত ধাপের সম্ভাব্য সময়সূচি একেবারেই প্রাথমিক। সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী সময়ে কমিশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, ইউপি নির্বাচনকে ধাপে ধাপে আয়োজনের ক্ষেত্রে মূল লক্ষ্য হচ্ছে মাঠ প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতার সঙ্গে সমন্বয় রেখে নির্বাচন পরিচালনা করা। একই সঙ্গে জাতীয় পর্যায়ের পরীক্ষা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম যাতে ভোটের কারণে ব্যাহত না হয়, সেটিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।
আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার পর কমিশনার সানাউল্লাহর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, পূর্বনির্ধারিত সাত ধাপের সূচি এখনো কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। প্রয়োজন হলে ধাপের সংখ্যা কমানো এবং সম্ভাব্য তারিখ পুনর্নির্ধারণ—দুই বিষয়ই কমিশনের বিবেচনায় রয়েছে।
ইসি কর্মকর্তারা এর আগে জানিয়েছিলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের রোডম্যাপ তৈরির ক্ষেত্রে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মতামত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে ভোটের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রস্তুতি ও সক্ষমতার তথ্য নেওয়া হচ্ছে।
ফলে ইউপি নির্বাচনের ভোটের তারিখ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা কাটেনি। তবে কমিশনের লক্ষ্য আগামী বছরের ৬ জুনের মধ্যে পুরো নির্বাচন শেষ করা। সংশ্লিষ্ট সব বিষয় পর্যালোচনা করে কয়েক দফা আলোচনার পর কমিশন সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ।
এর আগে ঘোষিত সাত ধাপের প্রাথমিক পরিকল্পনায় নভেম্বর থেকে শুরু করে মে মাস পর্যন্ত ভোট নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। এখন পরীক্ষা, রমজান এবং অন্যান্য বাস্তবতা বিবেচনায় সেই পরিকল্পনায় কী ধরনের পরিবর্তন আসে, সেটিই নির্ধারণ করবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের চূড়ান্ত ভোটসূচি।





