বিএনপির রাজনীতির উজ্জ্বল নক্ষত্র রিজভীই হচ্ছেন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব
বিএনপির প্রার্থী হিসেবে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আর তার দলীয় মহাসচিব পদে আসছেন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘনিষ্ঠ দুটি সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্রের দাবি, বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দল থেকে একাধিক নাম থাকলেও, শেষ পর্যন্ত মির্জা ফখরুলকে বেছে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনিই সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালনের অনানুষ্ঠানিক নির্দেশনা দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: জুলাই জাদুঘরে হেফাজত সংক্রান্ত ভাস্কর্য অপসারণ করুন, শরিয়াতে সব ভাস্কর্যই অবৈধ: পীর সাহেব দেওনা
নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে রোববার (৯ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে বিএনপি। রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী মনোনয়নপত্র দুটি সংগ্রহ করেন। তবে এগুলো কাদের নামে জানা না গেলেও বিভিন্ন গণমাধ্যমে আসে—পরবর্তী রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল।
তবে সন্ধ্যায় মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। ব্যাপারটি আমার নলেজে নেই। দলের পক্ষ থেকেও আমাকে কিছু জানানো হয়নি।’
আরও পড়ুন: ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীর নাম ঘোষণা
ভারপ্রাপ্ত এবং পূর্ণাঙ্গ মিলে ২০১১ সাল থেকে বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন মির্জা ফখরুল। তাকে ২০১১ সালের ২০ মার্চ ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করা হয়। এরপর ২০১৬ সালে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিবের দায়িত্ব পান।
নাম প্রকাশ না করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুলের পরিবারঘনিষ্ঠ এক নারী বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাষ্ট্রপতি হওয়ার বিষয়ে পরিবারের কাছে চূড়ান্ত কোনো তথ্য নেই। কারণ, এখানে দল ও রাজনীতির অনেক বিষয় আছে, যা সবাইকে বলাও সম্ভব নয়।
রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন বিষয়ে অবগত বিএনপির দুই সিনিয়র নেতা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্রপতি পদের প্রার্থী মনোনয়ন চূড়ান্ত করেছেন। তিনি মির্জা ফখরুলকেই বেছে নিয়েছেন এবং সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে বলেছেন।
দুই নেতাই বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু না ঘটলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরই বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন। তবে রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু নেই। আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগেও পরিবর্তন আসা সম্ভব।
গত ২৪ জুলাই ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধানে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
সর্বশেষ বৈঠকে স্থায়ী কমিটির নেতারা রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থী চূড়ান্ত করার দায়িত্ব বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেন। সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায়, নিশ্চিতভাবে তাদের মনোনীত প্রার্থীই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন।
গত ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে ইসি। তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। প্রত্যাহার করা যাবে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত। আর ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট হবে।
ভারপ্রাপ্ত এবং পূর্ণাঙ্গ মিলে ২০১১ সাল থেকে বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন মির্জা ফখরুল। তাঁকে ২০১১ সালের ২০ মার্চ ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করা হয়। এরপর ২০১৬ সালে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিবের দায়িত্ব পান।
মির্জা ফখরুল বঙ্গভবনের নতুন বাসিন্দা হলে, বিএনপির দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ মহাসচিব পদ শূন্য হবে। এই পদে দীর্ঘদিন ধরেই বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আসবেন বলে চাউর রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগ পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পাচ্ছেন রুহুল কবির রিজভী। এমনকি মির্জা ফখরুলের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও তাকে দেওয়া হতে পারে।
জানতে চাইলে রাতে রিজভী জানান, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব কিংবা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার ব্যাপারে তার কাছে কোনো তথ্য নেই। ‘এখনো আমি এসব বিষয়ে কিছুই জানি না। দলের ভেতর থেকেও আমাকে কিছু বলা হয়নি’, যোগ করেন তিনি।
এক আপোসহীন যোদ্ধার নাম রুহুল কবির রিজভী
রাজনীতিতে হার না মানা এক আপোসহীন যোদ্ধার নাম রুহুল কবির রিজভী। এরশাদবিরোধী ছাত্র-শ্রমিক আন্দোলনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশ-বিডিআরের ছোড়া থ্রি নট থ্রি রাইফেলের গুলি যার পেট দিয়ে ঢুকে পিঠ ভেদ করে চলে গেছে। যে ক্ষত তিনি আমৃত্যু বয়ে চলছেন, কিন্তু এতটুকু দমে যাননি কখনো।
বিএনপির ক্রান্তিকালে, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের চরম দমন-পীড়ন ও গ্রেপ্তারের মাঝেও তিনি রাজপথে নিজেকে মেলে ধরেছেন অনন্য মহিমায়। রাজনীতির মাঠে কখনো পাওয়া-না-পাওয়ার হিসাব রিজভী ভাইকে দমাতে পারেনি।
রাজনীতিতে “কমিটমেন্ট” শব্দটা ভাইয়ের হৃদয়ে বড়ই প্রকট, যে কারণে আন্দোলনের দিনগুলোতে তিনি হরতাল বা অবরোধের ঘোষণা দিয়ে সীমাবদ্ধতার ভেতরেও (তখন অনেক নেতাই ফোন বন্ধ রাখতো) ঘরে না বসে থেকে যতটুকু পেরেছেন লোকবল নিয়ে রাজপথে থেকেছেন। প্রায় প্রতিদিন মিছিল করে দলের নেতাকর্মীদের চাঙ্গা রেখেছেন।
শুধু ফ্যাসিস্ট হাসিনার আমলে কারাভোগ করেছেন ৯ বার। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে কারাভোগ করেছেন ৭ বার। আপোসহীন দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া যতদিন কারান্তরীণ ছিলেন, রিজভী ভাই ঘোষণা দিয়েছিলেন পার্টি অফিসকে আগলে রাখবেন, তিনি তার কথা থেকে বিচ্যুত হননি।
১৫, ১৬, ১৭, ১৮, ১৯, ২০—এই সালগুলোতে পার্টি অফিসের সামনে কেউ গেলেই ডিবি পুলিশ তাদেরকে তুলে নিত, সিনিয়র নেতৃবৃন্দ প্রয়োজন ছাড়া অফিসের দিকে আসতেন কম। কিন্তু সারা দেশের তৃণমূলের নেতাকর্মী পার্টি অফিসে এসে সব সময় রুহুল কবির রিজভীকে পেয়েছেন।
১/১১-এর সেনাসমর্থিত সরকারের সময়ে দল যখন সংস্কারপন্থীদের খপ্পরে পড়ে, সে সময়ও তিনি দলের হাল ধরেন। রুহুল কবির রিজভী ছিলেন ছাত্রদলের প্রথম নির্বাচিত সভাপতি ও রাকসুর নির্বাচিত ভিপি। এরপর তিনি স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য, সহদপ্তর সম্পাদক, দপ্তর সম্পাদক, যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ তিনি দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
৯০-এর এরশাদবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে সর্বশেষ ফ্যাসিস্ট হাসিনাবিরোধী আন্দোলন পর্যন্ত তার অবদান লিখলে হয়তো একটা পাণ্ডুলিপি হয়ে যাবে। এক কথায় বলা যায়, বিএনপির রাজনীতির এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম রুহুল কবির রিজভী।





