বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়াতে পারে পাকিস্তান

Any Akter
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত: ২:৪১ অপরাহ্ন, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ১:১১ অপরাহ্ন, ২৩ মার্চ ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বাংলাদেশের প্রতি সংহতি প্রকাশের অংশ হিসেবে আসন্ন টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) আচরণ ছিল কঠোর, অন্যায্য ও বৈষম্যমূলক।

পাকিস্তান সরকারের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো দ্য নিউজকে জানিয়েছে, ফেডারেল সরকার চাইলে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে (পিসিবি) টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জাতীয় দল পাঠানোর অনুমতি নাও দিতে পারে। ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে আইসিসির ‘দ্বিমুখী নীতি’ নিয়ে পাকিস্তানে অসন্তোষ দিন দিন বাড়ছে।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ বাতিল করল আয়ারল্যান্ড

সূত্র মতে, নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কথা উল্লেখ করেও বাংলাদেশকে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ খেলার অনুমতি না দিয়ে আইসিসি টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেয় এবং তাদের স্থলে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে। এই সিদ্ধান্তই ইসলামাবাদে গুরুতর প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।

এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে সোমবার ইসলামাবাদে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ কেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে গেল না, তদন্ত করবে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়

এক জ্যেষ্ঠ সরকারি সূত্র বলেন, ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর হাতে। তবে প্রাথমিক ইঙ্গিত হচ্ছে—পাকিস্তান সরকার বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এটি কেবল ক্রিকেটের বিষয় নয়, এটি নীতির প্রশ্ন। বাংলাদেশকে তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ব্যবস্থাপনা কোনো একক দেশের ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল হতে পারে না। একদিকে ভারত ইচ্ছেমতো ভেন্যু বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা পাচ্ছে, অন্যদিকে বাংলাদেশ নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়েও ভেন্যু পরিবর্তনের সুযোগ পাচ্ছে না। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এই ধরনের দ্বৈত মানদণ্ড গ্রহণযোগ্য নয়।

পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভিও ইতোমধ্যে আইসিসির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা আইসিসির নীতিগত অসঙ্গতির স্পষ্ট উদাহরণ, যা ন্যায়সংগত আচরণের চেতনাকে ক্ষুণ্ন করেছে।

তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এ বিষয়ে পিসিবি ফেডারেল সরকারের নির্দেশনা অনুসরণ করবে। পাকিস্তানের অংশগ্রহণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারের। পিসিবি সর্বোচ্চ পর্যায়ের নির্দেশ মেনেই চলবে।’

এদিকে পাকিস্তানের ক্রিকেটাররাও চেয়ারম্যানের অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। লাহোরে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে খেলোয়াড়রা সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত নেন, সরকারের অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ বা সরে দাঁড়ানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ক্রিকেট বিশ্ব যখন এই পরিস্থিতির দিকে তাকিয়ে আছে, তখন পাকিস্তানের সম্ভাব্য প্রত্যাহার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এতে আইসিসির শাসনব্যবস্থা, নিরপেক্ষতা ও ন্যায্যতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠতে পারে।