প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় পত্রিকার ডিক্লারেশন বাতিলের আবেদন
বগুড়া থেকে প্রকাশিত একটি দৈনিক স্থানীয় পত্রিকায় প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করার অভিযোগ উঠেছে। এতে স্থানীয় পত্রিকাটির ডিক্লারেশন (ঘোষণা) বাতিল চেয়ে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে আবেদন করা হয়েছে।
আবেদন সূত্রে জানা যায় যে, গত (৩০ এপ্রিল) বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে পৃথক ভাবে এ আবেদন করা হয়। বগুড়া শহরের চারমাথা ভবের বাজার এলাকার আবুল কালাম আজাদ এবং শিবগঞ্জ উপজেলার বিহারহাট এলাকার আনোয়ারুল ইসলাম সুমন।
আরও পড়ুন: মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দর নিয়ে মিতসুই প্রতিনিধি দলের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের বৈঠক
প্রাপ্ত তথ্য সূত্রে জানা যায় যে, গত ২৯শে এপ্রিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ও কৃষকদলের কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহ-সভাপতি, সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু'র প্রকাশিত এবং তাঁর ছেলে শাহেদুজ্জামান সিরাজ বিজয়ের সম্পাদিত "দৈনিক উত্তর কোণ" পত্রিকার প্রথম পাতায় একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। যে ঢাকার জেলা প্রশাসক নিয়োগে ৩০ কোটি টাকা লেনদেন, একই সিন্ডিকেট জড়িত "শিরোনাম" এর ওই প্রতিবেদনে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে জড়িয়ে তথ্য উপস্থাপন করে নিউজ প্রকাশ করা হয়।
এছাড়াও আবেদনকারীদের দাবি, প্রতিবেদনে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনা হলেও কোন নির্ভর যোগ্য সূত্র বা দালিলিক কোন প্রমাণ উল্লেখ করা হয়নি। যাহা পেশাগত সাংবাদিকতার বিধি-বিধান ও নীতিমালার পরিপন্থী। আবেদনে আরও বলা হয়, এধরনের নিউজ উদ্দেশ্য প্রণোদিত সংবাদ বলে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে এবং রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সংবাদটি প্রচলিত আইন ও ডিক্লারেশন নীতিমালার লঙ্ঘন করেছে বলে দাবি করে পত্রিকাটির ডিক্লারেশন বাতিলসহ দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি বিধি-ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানানো হয়।
আরও পড়ুন: কালবৈশাখীর তাণ্ডবে বিধ্বস্ত কসবা-আখাউড়া, ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে কবীর আহমেদ ভূঁইয়া
এতে আবেদনকারী ও বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সদস্য আবুল কালাম আজাদ বলেন যে, সংবাদটি প্রকাশিত হওয়ার পর তা আমার কাছে দৃষ্টিকটু মনে হয়েছে। মিথ্যা ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ করে দেশ, রাষ্ট্র এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে। একারণেই আমি উক্ত পত্রিকাটির ডিক্লারেশন বাতিলের আবেদন করেছি।
অপরদিকে আরেক আবেদনকারী আনোয়ারুল ইসলাম সুমন বলেন যে, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে নিয়ে যে সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে, সেটি ভিত্তিহীন এবং বিভ্রান্তিকর। বর্তমানে সরকার যখন দেশ, দেশ রাষ্ট্র এবং জাতি গঠনে সুষ্ঠু সুন্দর ভাবে কাজ করে যাচ্ছে, তখন একটি কুচক্রী মহল মিথ্যা ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে তাঁকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে "দৈনিক উত্তর কোণ" পত্রিকার সম্পাদক শাহেদুজ্জামান সিরাজ বিজয় তাৎক্ষণিক ভাবে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন যে, আমরা এই মুহূর্তে কোন মন্তব্য করতে বা কোন কথা বলতে চাই না।
এবিষয়ে বগুড়া জেলা প্রশাসক (ডিসি) তৌফিকুর রহমানের মুঠো ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর কার্যালয়ের দায়িত্বরত কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানা জানায় যে, এ বিষয়টি তাঁর কোন কিছু জানা নেই। তবে তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন এবং নিয়ম নীতি অনুযায়ী যথাযথ প্রয়োজনীয় বিধি-ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।





