লোকগাথা ও ইসলামী গল্পে দুই স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণে সরকারি উদ্যোগ

Sanchoy Biswas
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৬:২৮ অপরাহ্ন, ৩০ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ৫:১৭ অপরাহ্ন, ০১ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে দুটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণে উদ্যোগ নিয়েছে চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর। সরকারি এ প্রকল্পের আওতায় অভিজ্ঞ প্রযোজনা ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে ইতোমধ্যে চিত্রনাট্যসহ আবেদন আহ্বান করা হয়েছে।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর (ডিএফপি) সম্প্রতি প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, দেশের সমৃদ্ধ লোকজ ঐতিহ্য ও মানবিক মূল্যবোধকে দৃশ্যমান মাধ্যমে তুলে ধরতেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পের অংশ হিসেবে নির্মিত হবে দুটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, যার প্রতিটির বিষয়বস্তু আলাদা হলেও লক্ষ্য এক—বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও মূল্যবোধকে সৃজনশীলভাবে উপস্থাপন।

আরও পড়ুন: পশ্চিমবঙ্গ ভোটে তারকাদের ‘পারিশ্রমিক বাণিজ্য’, বিস্ফোরক দাবি নির্মাতা শুভ্রজিৎ মিত্রের

প্রথম চলচ্চিত্রটির বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে বাংলার জনপ্রিয় লোকগাথা গাজী কালু ও চম্পাবতী অবলম্বনে। ইংরেজি সাবটাইটেলসহ নির্মিতব্য এই চলচ্চিত্রটির দৈর্ঘ্য হবে ২৫ থেকে ৩০ মিনিট। প্রকল্পটির জন্য সরকারিভাবে ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই লোকগাথাকে আধুনিক নির্মাণশৈলীতে উপস্থাপন করা গেলে তা দেশ-বিদেশে দর্শকদের কাছে সমানভাবে গ্রহণযোগ্যতা পাবে।

দ্বিতীয় চলচ্চিত্রটির বিষয়বস্তু নির্ধারণ করা হয়েছে ইসলামী সংস্কৃতি, সহনশীলতা ও সামাজিক সংহতির বার্তা বহনকারী কোনো গল্পের ওপর ভিত্তি করে। ১২ থেকে ১৫ মিনিট দৈর্ঘ্যের এই চলচ্চিত্রটির জন্য বাজেট ধরা হয়েছে ১০ লাখ টাকা। এর মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক মূল্যবোধ ও পারস্পরিক সহাবস্থানের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন: প্রতারণার অভিযোগে এফআইআর বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আশু রেড্ডি, নথি তলব

ডিএফপি জানিয়েছে, নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানকে চলচ্চিত্র নির্মাণের পুরো প্রক্রিয়া—চিত্রনাট্য রচনা, শিল্পী নির্বাচন (কাস্টিং), শুটিং, সম্পাদনা, ডাবিং ও কালার গ্রেডিং—সমন্বিতভাবে সম্পন্ন করতে হবে। একই সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তি ও সৃজনশীল উপস্থাপনার সমন্বয় নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

এই প্রকল্পে অংশগ্রহণের জন্য আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোর কমপক্ষে পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিলগালা খামে আবেদনপত্র ও প্রস্তাবিত চিত্রনাট্য জমা দিতে হবে মহাপরিচালকের দফতরে।

আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় আগামী ৯ মে দুপুর ১২টা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরাসরি আবেদন জমা দিতে হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের লোকজ ঐতিহ্য ও মূল্যবোধভিত্তিক গল্পগুলো নতুনভাবে চিত্রভাষায় উপস্থাপিত হবে, যা দেশের সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতা সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।