আমার অধ্যায় শেষ, এখন নতুন প্রজন্মের সময়: ডি মারিয়া

Sadek Ali
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ৫:০৪ অপরাহ্ন, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৫:০৪ অপরাহ্ন, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

আর্জেন্টাইন ফুটবলের অন্যতম প্রাণপুরুষ এবং বিশ্বকাপজয়ী তারকা অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া জাতীয় দলের জার্সি তুলে রাখলেও ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে তার আবেদন এখনও অমলিন। আসন্ন আরেকটি বিশ্বকাপের হাতছানি থাকলেও বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে জাতীয় দলের অধ্যায়কে বিদায় জানিয়েছেন এই কিংবদন্তি। 

সম্প্রতি স্প্যানিশ দৈনিক 'এএস'-কে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে ডি মারিয়া তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের প্রাপ্তি, অবসরের নেপথ্য কারণ এবং সমসাময়িক ফুটবলের দুই মহাতারকা লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন।

আরও পড়ুন: পাকিস্তান ম্যাচ বয়কট, আইসিসি ডেকেছে জরুরি বৈঠক

এএস’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রোজারিও সেন্ট্রালের এই ফরোয়ার্ড বলেছেন, ‘ইচ্ছা নেই, এমন নয়। কিন্তু আমি আমার চক্র পূরণ করেছি। যা চেয়েছি, সবই অর্জন করেছি। আমার অধ্যায় শেষ। এখন নতুন প্রজন্মের সময়।’

নিজের অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়ে ডি মারিয়া জানান, কাতার বিশ্বকাপের পরই তিনি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলেন। তবে সতীর্থদের অনুরোধে কোপা আমেরিকায় খেলতে রাজি হন। ‘কোপা আমেরিকা জেতার পর সবকিছু সিনেমার মতো লাগছিল,’—বলেন তিনি।

আরও পড়ুন: মোস্তাফিজ বিতর্ক: বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বয়কট, শশী থারুরের কড়া মন্তব্য

২৮ বছরের শিরোপাখরা কাটানোটা ছিল বড় বিষয়। ক্লাব পর্যায়ে ভালো করলেও দেশের হয়ে ট্রফি না জেতার একটা ভার ছিল। ব্রাজিলের বিপক্ষে ফাইনালে আমার করা গোল, ওটা জীবনের সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্তগুলোর একটি।

জাতীয় দলের হয়ে নিজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে ২০২১ কোপা আমেরিকার কথাই তুলে ধরলেন ডি মারিয়া। তিনি বলেন, ‘২৮ বছরের শিরোপাখরা কাটানোটা ছিল বড় বিষয়। ক্লাব পর্যায়ে ভালো করলেও দেশের হয়ে ট্রফি না জেতার একটা ভার ছিল। ব্রাজিলের বিপক্ষে ফাইনালে আমার করা গোল, ওটা জীবনের সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্তগুলোর একটি।’

কাতার বিশ্বকাপ জয় নিয়েও কথা বলেছেন ডি মারিয়া। তার ভাষায়, ‘এর মূল্য অবশ্যই বেশি, তবে প্রতিটি শিরোপাই ত্যাগের পুরস্কার।’ ক্যারিয়ারে জেতা ৩৭টি ট্রফির কথা উল্লেখ করে তিনি যোগ করেন, ‘একটাকেও হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।’

লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পার্থক্য প্রসঙ্গে সাবেক সতীর্থ ডি মারিয়া বলেন, ‘ক্রিস ছিল কঠোর পরিশ্রম আর এক নম্বর হওয়ার প্রতি নিবেদিত। আর লিও লকাররুমে মাতে খেয়েও মাঠে নেমে দেখিয়ে দিতো, ঈশ্বরপ্রদত্ত প্রতিভা নিয়ে সে সেরা।’

রিয়াল মাদ্রিদে সতীর্থ থাকা রোনালদোর প্রশংসা করে ডি মারিয়া বলেন, ‘পেশাদারিত্বের দিক থেকে তার মতো আর কেউ নেই—কাজের নেশা আর দীর্ঘ সময় ধরে একই মান ধরে রাখার ক্ষমতা অসাধারণ।’ শেষ পর্যন্ত তিনি বলেন, ‘তার সময়টা মেসির যুগের সঙ্গে মিলেছে, তাই নিজের লক্ষ্য পূরণটা তার জন্য আরও কঠিন ছিল।’