গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি, আসছে নতুন মেট্রোরেল
রাজধানীর পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলকে একই পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন নেটওয়ার্কের আওতায় আনতে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রায় ৪৫ হাজার ৫০৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) লাইন-৫-এর সাউদার্ন রুট নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ‘ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (লাইন-৫): সাউদার্ন রুট’ শীর্ষক প্রকল্পটি বর্তমানে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সচিবালয়ে চলতি অর্থবছরের (২০২৬-২৭) একনেকের তৃতীয় সভায় প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন একনেকের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আরও পড়ুন: সৌদি আরবে বিমানবন্দরের কার্যক্রম সীমিত, প্রভাবিত ১৭৪ ফ্লাইটের ২৩ হাজারের বেশি যাত্রী
প্রকল্প পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন এই মেট্রোরেল করিডোরটি রাজধানীর গাবতলী থেকে শুরু হয়ে দাশেরকান্দি পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। পথে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন এলাকা যুক্ত হবে এই রুটে।
প্রস্তাবিত স্টেশন বা করিডোরের তালিকায় রয়েছে—টেকনিক্যাল, কল্যাণপুর, শ্যামলী, কলেজ গেট, আসাদ গেট, শুক্রাবাদ, কারওয়ান বাজার, হাতিরঝিল, তেজগাঁও, আফতাব নগর, আফতাব নগর সেন্টার, আফতাব নগর ইস্ট ও নাসিরাবাদ।
আরও পড়ুন: ১৩ সিটি করপোরেশনে ই-রিকশার নিবন্ধন শুরু সোমবার, সর্বোচ্চ ৫টির অনুমতি
এই রুটের মাধ্যমে ঢাকার উত্তর-দক্ষিণ এবং পূর্ব-পশ্চিমমুখী যাতায়াত আরও সহজ করার পাশাপাশি অন্যান্য মেট্রোরেল লাইনের সঙ্গে সংযোগ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এমআরটি লাইন-৫-এর নর্দার্ন রুট এবং এমআরটি লাইন-১-এর সঙ্গে সরাসরি ইন্টারচেঞ্জ সুবিধাও রাখা হচ্ছে।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীন ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০৩৩ সালের আগস্ট পর্যন্ত।
প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে দেওয়া হবে ১৫ হাজার ১৯৭ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। বাকি ৩০ হাজার ৩০৬ কোটি ১০ লাখ টাকা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও দক্ষিণ কোরিয়ার ইডিসিএফ থেকে সহজ শর্তের ঋণ হিসেবে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকল্প পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আবদুল ওয়াহাব জানিয়েছেন, সাউদার্ন রুটের প্রাথমিক পর্যায়ের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। কয়েক দফায় প্রকল্পের ব্যয় ও নকশা পর্যালোচনার পর এটিকে অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত দিক থেকে সবচেয়ে লাভজনক হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
তার মতে, নতুন মেট্রোরেল লাইনটি পুরোপুরি চালু হলে রাজধানীর সড়কে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ কমবে। একই সঙ্গে ঢাকার দুই প্রান্তের বাসিন্দাদের দ্রুত ও সুশৃঙ্খল গণপরিবহন ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে।
এখন প্রকল্পটির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে একনেকের অনুমোদনের দিকে তাকিয়ে রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।





