ফেসবুকে ভাইরাল ভিডিওতে গুলিবিদ্ধ সন্তানকে দেখতে পেয়ে বাবা মার চিৎকারে ভারী হয়ে উঠেছে

Any Akter
টাঙ্গাইল সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ১:২৮ অপরাহ্ন, ১০ অগাস্ট ২০২৪ | আপডেট: ১১:৩৯ পূর্বাহ্ন, ০৬ অগাস্ট ২০২৫
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পর ফেসবুকে একটি ভিডিওতে দেখতে পায় গুলিবিদ্ধ সন্তানকে বাবা মা । বাবা মার চিৎকারে ভারী হয়ে উঠেছে এলাকা। এতে করে পরিবারেরী নেমে আসে শোকের মাতম।  জীবিত বা মৃত খুঁজে এনে দেওয়ার অনুরোধ জানান পরিবার। অপরদিকে পরিবারের দাবি মৃত হলে তাকে যেন শহিদী মর্যাদা দেওয়া হয় এবং খুনীদের উপযুক্ত বিচার করা হয়।

পরিবারের দাবি নিখোঁজ সন্তানকে গাজীপুরের কোনাবাড়ি এলাকায়  দশ বারজন পুলিশ ঘেরাও করে  বুকে বন্দুক ঠেকিয়ে গুলির পর চ্যাংদোলা করে উঠিয়ে নেয়ার একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। সেই ভিডিও দেখে আমরা সনাক্ত করতে পেরেছি ওটাই আমাদের হৃদয়। পরনের পোশাক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্নণামতে নিশ্চিত গুলিবিদ্ধ মেধাবী ছাত্র হৃদয় হোসেন। হৃদয় হোসেন 

আরও পড়ুন: কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদের দানবাক্সে রেকর্ড ৩২ বস্তা টাকা, চলছে গণনা


টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার আলমনগর মধ্যপাড়ারার কৃষক লাল মিয়ার একমাত্র পুত্র। তারা তিন ভাই বোন। হৃদয় হোসেন দুই বোনের ছোট। হৃদয় হোসেন ২০২২সালে এসএসসি পাসের পর হেমনগর ডিগ্রী কলেজে ভর্তি হয়। পড়াশোনার পাশাপাশি দারিদ্র্যতার কারনে প্রায় ৫ মাস আগে গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে অটো রিকশা চালিয়ে উপার্জন করতো। 

আরও পড়ুন: শেরপুরে শিক্ষার্থী মায়মুনা হত্যার রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার মূল আসামী আপন ফুফা

হৃদয়ের মা রেহানা বেগম বিলাপ করে বলছেন পরনের পোশাক  নিশ্চিত ওটাই ছিল আমার হৃদয়। আহারে আমার হৃদয়ের ওরা কিভাবে মারতেছ এই বলে তিনি অচেতন হয়ে যান।

শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর, ৫ই আগষ্ট বিকালে সারাদেশের ন্যায় গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে। বিজয় মিছিলে অংশ নেয় সাধারণ মানুষ। পরিবারের দাবি সেখান থেকে নিখোঁজ রয়েছে। একই দিন বিকাল ৫টায় শরীফ জেনারেল হাসপাতাল (প্রা:) লিঃ এর গেইট সংলগ্ন। ১০-১২জন পুলিশ ঘেরাও করে। একজনের বুকে বন্দুক ঠেকিয়ে গুলির পর চ্যাংদোলা করে উঠিয়ে নেয়ার একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে।


হৃদয়ের ভগ্নিপতি মো. ইব্রাহিম হোসেন বলেন, আমরা দুজন এক বাসায় থাকতাম। ঐসময় আলাদা স্থানে ছিলাম, মিছিলে গুলির ঘটনায় আমি কোনাবাড়ি মেট্রো থানা সংলগ্ন একটি বাসায় আশ্রয় নেই। ঐ বাসার গেইটে দুর থেকে দেখতে পাই। ৪জন পুলিশ গুলিবিদ্ধ একজনকে চ্যাংদোলা করে থানার সামনে নিয়ে, বেঞ্চের আড়ালে লুকিয়ে রাখে। হৃদয়ের মত দেখতে ও পোষাক হলেও গুলির ভয়ে তখন কাছে যাইনি। পরে শুনি রাত ৩টায় সব পুলিশ পালিয়ে গেছে। এরপর বিভিন্ন হাসপাতাল ও মর্গে খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাওয়া যায়নি। ঘটনাস্থল থেকে হৃদয়ের পরনের লুঙ্গি পেয়েছি।

আলমনগর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য আঃ হামিদ বলেন, ঐ ঘটনার একটু দূরেই আমার দোকান রয়েছে। গুলির ঘটনার পর প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজনের বর্ননায় নিশ্চিত হয়েছি ওটাই হৃদয়। 

হৃদয়ের বাবা লাল মিয়া বলেন হৃদয়ের অনেক খোঁজাখুঁজি করেছি। তিনি বলেন খোঁজাখুঁজির পর অটোরিকশা গ্যারেজ মালিক হাফিজুর রহমান ভাইয়ের সাথে কথা হয় তখন তিনি বলেন হৃদয় মিছিলে ছিলোনা। আমার গ্যারেজ থেকে বাসায় ফেরার সময় পুলিশের ধাওয়ায় দুই বিল্ডিং এর মাঝে আশ্রয় নেন। সেখান থেকে ধরে এনে গুলির ঘটনা ঘটে। অনেকেই মোবাইলে সেই দৃশ্য ভিডিও ধারণ করে। আমার গ্যারেজের সামনে দিয়ে টেনে নিয়ে যাওয়া হয়।