আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের ঘোষণায় ইবি শিক্ষার্থীদের আনন্দ মিছিল

Sadek Ali
ইবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১০:০০ পূর্বাহ্ন, ১১ মে ২০২৫ | আপডেট: ১:১২ পূর্বাহ্ন, ০৬ মার্চ ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ঘোষণার পরপরই বাঁধভাঙা উল্লাস শুরু করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। 

শনিবার (১০ মে) রাত সাড়ে ১১ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া মোড়ে জড়ো হন শিক্ষার্থীরা। একটি আনন্দ মিছিল বের হয়ে পুরো ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে প্রধান ফটকের সামনে সমাবেশ করে তারা।

আরও পড়ুন: বাগেরহাটে পূবালী ব্যাংকের লকারে রাখা গ্রাহকের ২০০ ভরি স্বর্ণ উধাও, তদন্ত শুরু

এসময় শিক্ষার্থীরা ‘এই মুহূর্তে খবর এল, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হল’, ‘পতেঙ্গা না যমুনা, যমুনা যমুনা’, ‘দালালি না রাজপথ, রাজপথ রাজপথ’ ও ‘আবু সাঈদের বাংলায়, সন্ত্রাসীদের ঠাঁই নাই’ ইত্যাদি স্লোগান দেয়।

আনন্দ সমাবেশে ছাত্র আন্দোলন ইবি শাখার সভাপতি ইসমাঈল হোসেন রাহাত বলেন, ‘এই বিজয় ৫ আগস্টের পর পরই পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে ইন্টেরিম এত দিন অপেক্ষা করতে বাধ্য করলো। এই বিজয় শেষ বিজয় না, তাদের বিচারিক কাজ সম্পন্ন করতে হবে।’

আরও পড়ুন: যুবদল নেতার মৃত্যুর প্রতিবাদে রায়পুরে আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ

খেলাফতে ছাত্র মজলিস ইবি শাখার সভাপতি সাদেক আহমেদ বলেন, ‘এখানে ক্ষ্যান্ত হলে চলবে না, একেকটা আওয়ামী লীগকে ধরে ধরে ফাঁসির মঞ্চে ঝুলাতে হবে। খুনি হাসিনা যেখানেই থাকুক, দেশে এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ইবি শাখা সহ সমন্বয়ক তানভীর মন্ডল বলেন, ‘আমরা আনন্দিত। এই বিজয়ের ক্রেডিট নিতে যাতে কেউ না আসে সেটাই বলবো। জুলাই বিপ্লব সনদ দ্রুত সাংবিধানিক রূপ দিতে ইন্টেরিম গভর্মেন্টের প্রতি আহ্বান থাকবে।’

ইবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘হাজারো শহিদদের দাগ লাগানো সন্ত্রাসী সংগঠনের শুধু নিষিদ্ধ নয়, বরং বিচার নিশ্চিত করতে হবে। গণহত্যাকারী স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের বিচার না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বো না। যারা ফ্যাসিবাদ ও ভারতের বিরুদ্ধে কথা বলেছে তাদের নির্বিচারের হত্যা, গুম, খুন করেছে এই আওয়ামী লীগ। কারাগারের ধারণ ক্ষমতার বাহিরেও অন্যায়ভাবে আমাদের ভাইদের আটকে রেখেছে। যদি ন্যূনতম লজ্জা থাকে আবার রাজনীতি করতে আসবেন না।’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ইবি শাখার সমন্বয়ক এস এম সুইট বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ বা জনতা যা বলবে জনতার সরকার তা করতে বাধ্য। আগামীর বাংলাদেশ চলবে ছাত্র জনতার ম্যান্ডেট নিয়ে। বর্তমান রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশ্যে বলছি- আন্দোলনে যারা ছিলেন না এবং যদি আওয়ামী লীগের দেখানো পথে চলেন, তাহলে আপনাদেরও সেই পথে নিয়ে যেতে বাধ্য করবো। জুলাই ঘোষণা পত্র দ্রুত বাস্তবায়ন চাই, যদি ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে ঘোষণা না দেয় তাহলে আবারও দুর্বার আন্দোলনে নেমে পড়বো।’