ইরানের ড্রোন হামলায় কাতারে গ্যাস উৎপাদন বন্ধ
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের প্রেক্ষাপটে কাতারের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পেট্রোলিয়াম কোম্পানির দুটি স্থাপনায় ইরানের ড্রোন হামলার কারণে প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করেছে কাতারএনার্জি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর তীব্র প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলো ও কাতারের স্থাপনাগুলোতে একের পর এক হামলা চালাচ্ছে।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলার প্রেক্ষাপটে ইরানকে সমর্থন জানাল চীন
সোমবার (২ মার্চ) কাতারএনার্জি এক বিবৃতিতে জানায়, হামলায় রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি ও মেসাইদ ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটির তাদের পরিচালন কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মেসাইদ এলাকার একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পানির ট্যাংক এবং রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে একটি জ্বালানি স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। হামলার কারণে কোম্পানি এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পণ্যের উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, সমস্ত ক্ষয়ক্ষতি ও লোকসান নিরূপণ করা হবে এবং পরে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত ৩৫
বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানিকারক দেশ কাতার এবং বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গ্যাস কোম্পানি কাতারএনার্জি। ইরানের হামলায় উৎপাদন বন্ধ হওয়ায় এটি বিশ্ব বাজারে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
প্রসঙ্গত, পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একযোগে হামলা চালায়। এই হামলায় মারা যান ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। খামেনির মৃত্যুর পর ৪০ দিনের গণশোক এবং সাত দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান রোববার (১ মার্চ) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেছেন, এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নেওয়া ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বৈধ অধিকার এবং পবিত্র দায়িত্ব। ইরান প্রতিশোধের জন্য সকল প্রকার শক্তি ও সামর্থ্য ব্যবহার করবে।





