জর্ডান ও কাতারের মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:২৬ পূর্বাহ্ন, ১২ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১১:৩৮ পূর্বাহ্ন, ১২ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। দেশটির দাবি, জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটি এবং কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছে।

রোববার (১২ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

আরও পড়ুন: হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা আইআরজিসির

আইআরজিসি জানায়, জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিতে প্রচারিত এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়, হামলায় ঘাঁটির একটি কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার এবং এমকিউ-৯ ড্রোন সংরক্ষণের হ্যাঙ্গার ধ্বংস করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের হামলা ঠেকাতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করল ইরান

পৃথক আরেক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতেও হামলা চালানো হয়েছে। সেখানে একটি যুদ্ধবিমান রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত কেন্দ্র এবং একটি কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

তবে এর আগে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, দেশটির আকাশসীমার দিকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনায় পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে অস্থিরতা আরও বেড়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কার্যকর অবরোধের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতির চাপও বাড়ছে।

ইরান দাবি করেছে, কয়েকটি জাহাজ ‘অননুমোদিত নৌপথ’ ব্যবহার করে চলাচলের চেষ্টা করেছিল। গতিপথ পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হলেও তারা তা উপেক্ষা করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আইআরজিসি ঘোষণা দেয়, অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে।

অন্যদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, আইআরজিসির বিবৃতির প্রায় এক ঘণ্টা পর শনিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা সামরিক অভিযান শুরু করে।

সেন্টকমের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশেই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।