ইউএনওকে আটকের নির্দেশ দিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তার কান্ড

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৬:২২ অপরাহ্ন, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ২:৫৪ পূর্বাহ্ন, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

কক্সবাজারের নুনিয়াছটা বিআইডব্লিউটিএ জেটিঘাটে সেন্ট মার্টিনগামী জাহাজ মিস হওয়াকে কেন্দ্র করে নিজেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা পরিচয় দেওয়া এক পর্যটক ইউএনওকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়ে বিপাকে পড়েছেন। শুক্রবার সকাল সাতটার দিকে ঘটে এই ঘটনা।

সাক্ষীদের মতে, ১১ সদস্যের পর্যটকদল ঘাটে পৌঁছানোর আগেই জোয়ার–ভাটার কারণে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী জাহাজ ছেড়ে যায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন দলের সদস্যরা এবং শুরু হয় বাক–বিতণ্ডা। একপর্যায়ে ইব্রাহিম নামে এক পর্যটক নিজেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ঘাটে থাকা এক পুলিশ সদস্যকে ইউএনওকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন।

আরও পড়ুন: বহিস্কার থেকে হবে নবীনগরে আবিষ্কার হবে: কাজী নাজমুল হোসেন তাপস

জাহাজ মালিকদের সংগঠন সি ক্রুজ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, নদীর জোয়ার–ভাটার কারণে জাহাজ সময়মতো ছাড়তে হয়। ইউএনওর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা ইব্রাহিম জাহাজ দেখতে না পেয়ে উত্তেজিত হন। পরে ইউএনওর প্রকৃত পরিচয় জানতে পেরে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।

ইউএনও তানজিলা তাসনিম বলেন, “নিজেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা দাবি করা ওই ব্যক্তি আমাকে গ্রেপ্তার করার নির্দেশ দিতে বলেন—যা সম্পূর্ণ অনৈতিক এবং তার এখতিয়ারের বাইরে। পুরো ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করা হয়েছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।”

আরও পড়ুন: ফেনীর ০৩টি আসনে জাতীয়তাবাদী প্রবাসী সংগ্রামী দলের গণসংযোগ

তিনি আরও বলেন, পর্যটকদের অসুবিধার কথা বিবেচনা করে তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ব্যক্তিটির পরিচয় যাচাই করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নুনিয়াছটার বিআইডব্লিউটিএ জেটিঘাট থেকে প্রতিদিন সকাল ৭টায় সেন্ট মার্টিনগামী জাহাজ ছেড়ে যায়। প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার পর্যটক এই রুটে যাতায়াত করেন। নিরাপত্তা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং অতিরিক্ত যাত্রী প্রতিরোধে ইউএনওর নেতৃত্বে একটি কমিটি কাজ করছে।

১ ডিসেম্বর থেকে কক্সবাজার–সেন্ট মার্টিন রুটে জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। পাশাপাশি সেন্ট মার্টিনে রাত্রীযাপনের সুযোগও রয়েছে। তবে দ্বীপের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকারি ঘোষিত ১২টি নির্দেশনা মানা বাধ্যতামূলক।