নাসিরনগরে চেয়ারম্যানের মধ্যস্থতার মধ্যেই সংঘর্ষ, নারীসহ আহত ২০
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে পূর্বের একটি ঘটনার জের ধরে সৃষ্ট উত্তেজনা নিরসনে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের মধ্যস্থতায় আলোচনা চলাকালেই দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতির গুরুতর অবনতি হলে পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়।
রোববার (১১ জানুয়ারি) সকালে নাসিরনগর উপজেলার কুন্ডা ইউনিয়নের কোনাপাড়া এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কলমধর গোষ্ঠী ও রৌসুন মিয়া গোষ্ঠীর সমর্থকদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কয়েকদিন আগে মারামারির ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনার রেশ ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
আরও পড়ুন: চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে গুলিবিদ্ধ বাংলাদেশিকে ধরে নিয়ে গেছে বিএসএফ
উত্তেজনা নিরসনের লক্ষ্যে কুন্ডা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. নাসির উদ্দিন ভূইয়া স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেন। আলোচনা চলাকালেই দুই পক্ষের কিছু উগ্র ও উশৃঙ্খল ব্যক্তি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এক পক্ষ অপর পক্ষের ওপর হামলে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যেই পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
শত শত দাঙ্গাকারীর সামনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ হিমশিম খেতে থাকলে স্থানীয় প্রশাসনের অনুরোধে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনীর সদস্যরা কঠোর অবস্থান গ্রহণ করলে সংঘর্ষকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় এবং পরিস্থিতি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসে।
আরও পড়ুন: শুধু দল করলেই ক্ষমতায় থাকা যায় না, জনগণের রাজনীতি করতে হবে: জহির উদ্দিন স্বপন
বর্তমানে এলাকায় শান্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। আহতদের মধ্যে আটজন নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। গুরুতর আহত ইয়াদুন (২৫) নামের একজনকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে কুন্ডা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. নাসির উদ্দিন ভূইয়া দৈনিক বাংলাবাজার পত্রিকাকে বলেন, “একটি পুরোনো বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য আমরা উভয় পক্ষের সঙ্গে আলাদাভাবে আলোচনা করছিলাম। কিন্তু হঠাৎ কিছু উশৃঙ্খল ব্যক্তি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।”
নাসিরনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ শাহিনুল ইসলাম দৈনিক বাংলাবাজার পত্রিকাকে জানান, “বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।”





