ডাক্তারের অনুপস্থিতি ও খালি অক্সিজেন সিলিন্ডার: নিকলীতে বিএনপি নেতার মর্মান্তিক মৃত্যু
কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের অনুপস্থিতি ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগের মধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন নিকলী সদর ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা বিএনপির সহ-কৃষি বিষয়ক সম্পাদক আনিসুজ্জামান মোহন। জরুরি বিভাগে চিকিৎসক না থাকা এবং রেফারের সময় অ্যাম্বুলেন্সে অক্সিজেন সিলিন্ডার খালি থাকায় পথিমধ্যেই তার মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সজীব ঘোষের বিরুদ্ধে অবহেলা, অনিয়ম ও দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী।
পারিবারিক ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ জানুয়ারি শারীরিক অসুস্থতা অনুভব করলে আনিসুজ্জামান মোহনকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, সে সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না। পরিস্থিতির অবনতি হলে পরিবারের সদস্যরা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। এমনকি মোহন নিজেও একাধিকবার ডা. সজীব ঘোষকে ফোন করেন বলে দাবি স্বজনদের, তবে তিনি সাড়া দেননি।
আরও পড়ুন: ব্যক্তিগত গাড়ি চলার জন্য ২০ গাছ কাটায় মিঠামইন উপজেলা বিএনপি সভাপতির পদ স্থগিত
রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় চিকিৎসকের সরাসরি তত্ত্বাবধান ছাড়াই তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ভাগলপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। যাত্রাপথে তার শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে স্বজনরা অক্সিজেন দেওয়ার চেষ্টা করেন। তখন দেখা যায়, অ্যাম্বুলেন্সে থাকা অক্সিজেন সিলিন্ডারটি খালি। কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, সময়মতো চিকিৎসা ও অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করা হলে হয়তো তাকে বাঁচানো সম্ভব হতো। মৃত্যুর আগে চিকিৎসা না পাওয়ার কষ্ট তিনি প্রকাশ করেছিলেন বলেও জানান তারা।
আরও পড়ুন: শ্রীপুরে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষক আটক
এ ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালটিতে অনিয়ম, চিকিৎসক সংকট ও অব্যবস্থাপনা চলে আসছে। ডা. সজীব ঘোষের বিরুদ্ধে ডিউটিতে অনিয়মিত উপস্থিতি, চিকিৎসা সরঞ্জাম রক্ষণাবেক্ষণে গাফিলতি ও রোগী হয়রানির অভিযোগও তোলেন অনেকে। এ নিয়ে পূর্বেও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ ও মানববন্ধন হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ডা. সজীব ঘোষ বলেন, চিকিৎসায় কোনো অবহেলা হয়নি। সিসিটিভি ফুটেজে বিষয়টি স্পষ্ট রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। যদিও গণমাধ্যমকে তাৎক্ষণিকভাবে ফুটেজ দেখানো সম্ভব হয়নি তার পক্ষে।
এ ঘটনায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের অনুলিপি বিভাগীয় কমিশনার (ঢাকা), মহাপরিচালক (স্বাস্থ্য অধিদপ্তর), জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জন কিশোরগঞ্জসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. অভিজিৎ শর্মা বলেন, “ঘটনাটি তদন্ত করে অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে সরকারি বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্বাস্থ্য ও সেবা বিভাগের সচিব ডা. সাইদুর রহমান জানান, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।





