কলাতলী ও লাবনীতে ঝুপড়ি বসছে

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান

Sanchoy Biswas
হাবিবুর রহমান সোহেল, কক্সবাজার
প্রকাশিত: ৫:৫৭ অপরাহ্ন, ১৫ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ১০:৫২ অপরাহ্ন, ১৫ মার্চ ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে জেলা প্রশাসন রবিবার বালিয়াড়িতে থাকা সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে। তবে সৈকতের গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র কলাতলী ও লাবনী পয়েন্টে অবৈধ ঝুপড়ি, দোকান ও হকার বসে পুরো এলাকা এখন বস্তি অঞ্চলের মতো অবস্থা সৃষ্টি করেছে।

রোববার দিনভর চলা উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসন ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এর আগে শনিবারও তৃতীয় দিনের অভিযানে সুগন্ধা পয়েন্টে এক্সকেভেটর, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং জেলা প্রশাসনের পাঁচজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত ছিলেন। অভিযানের শুরুতেই কিছু ব্যবসায়ী দোকানের সামনে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ করেন। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্থাপনাগুলোর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে মাইকিংয়ের মাধ্যমে দোকান সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু ব্যবসায়ীরা নিজেদের প্রতিষ্ঠানগুলোর সামনে অবস্থান অব্যাহত রাখেন।

আরও পড়ুন: অষ্টগ্রামে শিক্ষক সমিতির দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

সুগন্ধা পয়েন্টের বালিয়াড়ির দু'পাশে শামুক-ঝিনুক, বার্মিজ পণ্য এবং বিভিন্ন ধরনের আচারের প্রায় পাঁচ শতাধিক দোকান রয়েছে। ব্যবসায়ীরা দাবি করেন, তারা জেলা প্রশাসনের অনুমোদিত কার্ড নিয়ে নিয়মিত রাজস্ব প্রদান করে দীর্ঘদিন ধরে মৌসুমি ব্যবসা পরিচালনা করছেন। অনেকের কার্ডের মেয়াদ এখনো বৈধ। তারা জানান, ঈদকে সামনে রেখে নতুন বিনিয়োগ করেছেন এবং কয়েক হাজার পরিবারের জীবিকা এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। হঠাৎ উচ্ছেদ করলে তারা বড় আর্থিক সংকটে পড়বেন। তাই ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের কাছে পুনর্বিবেচনা ও বিকল্প ব্যবস্থার অনুরোধ করেছেন।

জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (পর্যটন সেল) মনজু বিন আফনান জানান, ব্যবসায়ীদের মানবিক দিক বিবেচনায় রোববার সকাল ১০টা পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে যারা স্বেচ্ছায় দোকানপাট সরিয়েছেন, তাদেরকে ব্যবস্থা করা হয়নি। আর যারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এলাকা খালি করেননি, তাদেরকে উচ্ছেদ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: নান্দাইলে এতিমখানা ও মাদ্রাসা সহ হতদরিদ্রদের মাঝে সৌদি খেজুর বিতরণ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনার পর গত দুইদিনে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ১৩০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে প্রশাসন। তবে কলাতলী ও লাবনী পয়েন্টে ঝুপড়ি ও হকার বসে থাকার কারণে সৈকতের সৌন্দর্য ও পর্যটন প্রবাহে সমস্যা দেখা দিচ্ছে।